যশোরে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দল নিয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত রয়েছেন গোলাম রব্বানী ছোটন। চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। এরই মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কোচের সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে কোনও এক প্রবাসী খেলোয়াড়কে নাকি দলে সুযোগ দেননি! তা দৃষ্টিগোচর হতেই ছোটন যেন অবাকই হলেন। পরবর্তীতে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে পুরো বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করলেন দুবারের সাফজয়ী নারীদের কোচ।
ঘটনার সূত্রপাত হলো, একদিন ঢাকার মিরপুর থেকে একজন অভিভাবকের ফোন এসেছিল। ভদ্রলোক তার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ছেলেকে বয়সভিত্তিক দলে খেলানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কোচ ছোটন বিনয়ের সুরে সেই অভিভাবককে বাফুফে ভবন তথা টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করে যথাযথ নিয়ম মানতে বলেছিলেন।
তারপর তো ফেসবুকে হঠাৎ সমর্থকদের কেউ কেউ ছোটনকে প্রবাসী খেলোয়াড় বিদ্বেষী বলে অভিহিত করেছেন। যদিও যশোর থেকে ছোটন বলেছেন, ‘ফেসবুকে যা লেখা হচ্ছে তা মিথ্যে। এখন তো ফেসবুকে যা-তা লেখা হয়। আসলে সেই ভদ্রলোক তার ছেলের বায়োডাটা আমাকে দিতে চেয়েছিলেন। তার ছেলেকে খেলানোর অনুরোধ করে। আমি তাকে বলেছিলাম বাফুফের টেকনিকাল ডিরেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। তার মাধ্যমে আসতে। এরপর দেখি ফেসবুকে আমাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। আমি নাকি সেই ছেলেকে নিতে চাই না.. এসব। আসলে এটা ঠিক নয়।’
এরপরই ছোটন নিজেই উদাহরণ টেনে বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অনুশীলনের আগে আমরা ঢাকার ট্রায়াল থেকে সুইডেন প্রবাসী একজনকে ডেকেছিলাম। কিন্তু কোনও সাড়া পায়নি। তাহলে আমি প্রবাসী বিদ্বেষী হলাম কীভাবে। এখন যে যেভাবে পারছে সমালোচনা করছে। সত্যিটা না বুঝেই।’
এর আগে ছোটনের বয়সভিত্তিক দলের খেলার কৌশল নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। ডাগ আউট থেকে বারবারই তার নির্দেশনা ছিল দৃষ্টিকটু। এ নিয়ে ছোটন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘সাম্প্রতিক অরুণাচল প্রদেশের পারফরম্যান্স যদি দেখেন সেখানে কিন্তু দল আক্রমণাত্মক খেলেছে। কেউ দলের পারফরম্যান্স দেখে খারাপ বলতে পারবে না। এছাড়া দলের প্রয়োজনে যখন যা বলার বলে থাকি। শুধু সমালোচনা করলেই তো হবে না।’
মেয়েদের দলের কোচ থাকাকালীনও অভিযোগ উঠেছিল বলে তা খণ্ডাতে গিয়ে ছোটন বলেছেন, ‘এখন কেউ কেউ বলছে আমি নাকি নারীদের কোচ থাকাকালীন ভালো পারফর্মারদের অনেককে নেইনি। যদি এমনই হতো তাহলে টানা দুবার দল সাফ জিতলো কীভাবে। সবার কথা বুঝে শুনে বলা উচিত। আমি যা করেছি তা দলের ভালোর জন্যই।’