যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে জড়িত নথি প্রকাশে বাধ্য করার একটি বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন প্রায় সব রিপাবলিকান। তবে একমাত্র “না” ভোটটি দিয়েছেন লুইজিয়ানার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ক্লে হিগিন্স। দলকে অগ্রাহ্য করে তিনি বলেছেন তার এই ভোট ছিল নীতিগত “না”।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হিগিন্স লিখেছেন, “তিন মাস আগে বিলের যেটা ভুল ছিল, সেটা আজও ভুলই আছে। এটি আমেরিকার ২৫০ বছরের ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়াকে পরিত্যাগ করে।”
এপস্টিন বিলের পক্ষে ৪২৭-১ ভোট শুধু কংগ্রেসে বিরল দ্বিদলীয়তার মুহূর্তই নয়; ঘণ্টাখানেক পর মার্কিন সিনেটও এই আইন অনুমোদন করে।
হিগিন্সের মতে, এপস্টিনের বহু ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি ছিল এই আইনের সবচেয়ে বড় সমস্যা।
এক্সে তিনি আরও বলেছেন, “এই বিল হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে; বিশেষ করে যারা সাক্ষী বা অ্যালিবি দিয়েছেন ও তাদের পরিবারের সদস্যের। তাদের পরিচয় প্রকাশ করে এভাবে অপরাধ তদন্তের ফাইলগুলো গণমাধ্যমের হাতে তুলে দেওয়া হলে নির্দ্বিধায় নিরপরাধ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
হিগিন্স বলেছেন, সিনেট যদি এটি সংশোধন করে তবে তিনি সমর্থন দেবেন—যদিও রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন আগেই জানিয়েছিলেন এটি অসম্ভব।
সিনেটে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়ার আগে, থুন বলেন, “যখন কোনও বিল হাউজে ৪২৭-১ ভোটে পাস হয় এবং প্রেসিডেন্ট বলেছেন তিনি সই করবেন, তখন আমার মনে হয় না যে সেটি সংশোধনের কোনও সুযোগ আছে।”
হাউজে ভোট হওয়ার আগে মাত্র চারজন রিপাবলিকান—থমাস ম্যাসি, লরেন বোবার্ট, ন্যান্সি মেস এবং মার্জোরি টেলর গ্রিন—ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভোট বাধ্যতামূলক করার আবেদনে স্বাক্ষর করেছিলেন।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভোটে বিরোধিতা প্রত্যাহার করার পর বিলটি বিপুল রিপাবলিকান সমর্থন পায়।
হিগিন্স ২০১৭ সাল থেকে লুইজিয়ানার তৃতীয় জেলা প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং তার ওয়েবসাইট অনুযায়ী কংগ্রেসের সবচেয়ে রক্ষণশীল সদস্যদের একজন হিসেবে বিবেচিত।
কংগ্রেসে আসার আগে হিগিন্স লুইজিয়ানার সেন্ট ল্যান্ড্রি প্যারিশ শেরিফ অফিসের সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালে একটি বিতর্কিত অপরাধবিরোধী ভিডিওতে রাইফেল হাতে গ্যাং সদস্যদের প্রতি হুমকি দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।
বিবিসি মন্তব্যের জন্য হিগিন্সের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
সূত্র: বিবিসি