এই শরতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা নিরসনে নতুন এক দফা আলোচনা নির্ধারণ করা যাবে বলে আশা করছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এ কথা বলেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এর আগে ইস্তাম্বুলে দুটি বৈঠক করেছে—প্রথমটি ফেব্রুয়ারিতে, দ্বিতীয়টি এপ্রিলে। মূলত কূটনীতি ও দূতাবাস পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ছিল এ দুটি বৈঠক। উভয় পক্ষই জানিয়েছিল যে এসব আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে।
এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিন সাক্ষাৎ করেছেন। গত মাসে আলাস্কায়। তবে সেই আলোচনা এখনও সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ তাস সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, নতুন কূটনৈতিক বৈঠক আয়োজন বিলম্বিত হওয়ার কারণগুলোর একটি হলো উভয় পক্ষেরই এ ইচ্ছা যে আলোচনাটি যেন উল্লেখযোগ্য ফল ছাড়া ব্যর্থ না হয়।
তাসকে রিয়াবকভ বলেছেন, যাই হোক, যদি আমরা সময়সীমা নিয়ে কথা বলি, তবে অন্তত শরতের শেষে এ ধরনের একটি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, কিছু বাধা ছিল। যেমন: প্রযুক্তিগত বা সময়সূচি-সংক্রান্ত সমস্যা, কিন্তু সেটিই আসল বিষয় ছিল না।
তাসকে রিয়াবকভ আরও বলেছেন, প্রধান কারণ হলো আমরা চাইনি যে বৈঠকটি দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি ছাড়া অনুষ্ঠিত হোক। ঝুঁকি রয়েছে যে আমরা একই জায়গায় থেকে যাব, কোনও অগ্রসরতা অর্জন করতে পারব না।
তার মতে, তাই ভালো হবে যদি উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা অবস্থায় আমরা আড়ালে কাজ চালিয়ে যাই। হয়তো পরবর্তী ধাপ বা ধাপগুলোর জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে। আর সব ধরনের লজিস্টিক ও সাংগঠনিক দিক দ্রুত সমাধান হবে।
ইস্তাম্বুলে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল প্রায় ছয় ঘণ্টা রাশিয়ান কনস্যুলেট ভবনে অবস্থান করেছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র তখন বলেছিলেন, আলোচনার এজেন্ডায় ইউক্রেন ছিল না।
পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছিল, এই বৈঠক ফেব্রুয়ারির আলোচনায় প্রতিষ্ঠিত ‘গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ অব্যাহত রেখেছে।