দুর্নীতি দমন সংস্থার অভিযানের পর জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফের পদত্যাগ

দুর্নীতি দমন সংস্থার অভিযানের পর জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফের পদত্যাগ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাক পদত্যাগ করেছেন। দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা তার বাসায় তল্লাশি চালানোর কয়েকঘণ্টা পর শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) পদত্যাগ করেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি থেকে এ খবর জানা গেছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্যে দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন যখন মস্কোর সঙ্গে সমঝোতার জন্য কিয়েভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, তখন এই ঘটনা দেশটির নেতৃত্বকে নতুন সংকটে ফেলেছে।

মার্কিন ২৮ দফা প্রস্তাবে ইউক্রেনের অবস্থান বজায় রাখতে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ইয়ারমাক। ওই পরিকল্পনার অনেক শর্ত মস্কোর বহু আঞ্চলিক ও নিরাপত্তা দাবি পূরণ করতে পারে এবং কিয়েভকে করতে পারে বঞ্চিত। জেলেনস্কি বলেছেন, শনিবার তিনি ইয়ারমাকের বিকল্প নিয়ে ভাববেন।

শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া চায় আমরা ভুল করি। আমরা কোনও ভুল করব না। আমাদের কাজ চলবে। আমাদের লড়াই চলবে।

জেলেনস্কির কৌতুকবিদ ক্যারিয়ারের সময় থেকেই ইয়ারমাক তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে জেলেনস্কির ‘আউটসাইডার’ প্রচারণার সফল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীকালে ৫৪ বছর বয়সি ইয়েরমাক নিজেকে প্রেসিডেন্টের প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এমন একজন উপদেষ্টা, যিনি সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে আসেননি। ফলে দেশে ও বিদেশে তার ক্ষমতার পরিধি নিয়ে সমালোচনা ওঠে।

ইয়ারমাক তার অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশির তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। দেশটির জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) ও বিশেষায়িত দুর্নীতি দমন প্রসিকিউটরদের কার্যালয় অবশ্য জানায়নি, ঠিক কোন তদন্তের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি পরিচালিত হয়েছে।

চলতি মাসে ওই দুই সংস্থা রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে প্রায় ১০ কোটি ডলারের কথিত ঘুষ কেলেঙ্কারির বিস্তৃত তদন্ত শুরু করেছে। এতে সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জেলেনস্কির এক সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদারের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ইয়ারমাককে কোনও সন্দেহভাজন হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়নি।

তবুও নাগরিক সংগঠন, বিরোধী রাজনীতিবিদ এবং এমনকি জেলেনস্কির নিজের দল ‘সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল’-এর কয়েকজন সদস্য তার অপসারণ দাবি করেন। তাদের মতো, তার উপস্থিতি ইউক্রেনের আলোচনার অবস্থান দুর্বল করে দিচ্ছিল।

দলের এক আইনপ্রণেতা মিকিতা পোটুরায়েভ বলেন, প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও সরকারে পুনর্গঠন জরুরি। তিনি স্বীকার করেন, পদত্যাগ ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে হলেও এটি প্রয়োজনীয় ছিল।

তিনি বলেন, ইয়ারমাককে পদে বহাল রাখার সম্ভাব্য ক্ষতি, বর্তমান ঝুঁকির চেয়ে বেশি ছিল।

Comments

0 total

Be the first to comment.

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা BanglaTribune | আন্তর্জাতিক

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা

নেপালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউদেল এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কা...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin