বাংলাদেশের অর্থনীতি সাম্প্রতিক সময়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক মাসের বৃদ্ধি পরের মাসে কমতে থাকলেও, গত দুই মাস ধরে অর্থনীতির সম্প্রসারণের গতি দৃঢ় হয়েছে। সেপ্টেম্বরে সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার পর অক্টোবর মাসে সম্প্রসারণের হার আরও দ্রুত হয়েছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই) ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের যৌথভাবে প্রকাশিত পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ৬৫.৭ পয়েন্টে থাকা সূচকটি পরবর্তী সময়ে কিছুটা কমে গেলেও, সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯.১ পয়েন্টে। অক্টোবর মাসে পিএমআই আরও ২.৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬১.৮ পয়েন্ট।
পিএমআইয়ের উন্নতি মূলত কৃষি ব্যবসা, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা খাতের সম্প্রসারণের কারণে। পিএমআই হিসাবের জন্য দেশের প্রধান খাতের ৪০০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যেখানে কাঁচামাল ক্রয়, পণ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও নতুন ব্যবসা সংক্রান্ত সূচকগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। সূচক ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে সংকোচন বোঝায়।
উৎপাদন খাত ১৩ মাস ধরে সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখছে। সেপ্টেম্বর মাসে উৎপাদন খাতের সূচক ৬৫ পয়েন্ট থেকে বেড়ে অক্টোবর মাসে দাঁড়ায় ৬৬.১ পয়েন্টে, নতুন ক্রয়াদেশ, রফতানি, কাঁচামাল ক্রয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে।
নির্মাণ খাত দীর্ঘ চার মাস সংকোচনের পর সম্প্রসারণে ফেরে। অক্টোবর মাসে সূচক বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬.৫ পয়েন্টে, নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম ও কাঁচামাল কেনাকাটার বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।
কৃষি খাত সেপ্টেম্বরের পরে সম্প্রসারণে ফিরেছে। অক্টোবর মাসে সূচক ৫৯.৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ইনপুট খরচের বৃদ্ধি মূলত এই উন্নতির পেছনে কাজ করেছে।
সেবা খাত টানা ১৩ মাস ধরে সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। সেপ্টেম্বরের ৫৮.৭ পয়েন্ট থেকে অক্টোবর মাসে বেড়ে ৬১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও কাঁচামাল কেনাকাটার সূচক সম্প্রসারণে অবদান রেখেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, “অক্টোবর মাসের পিএমআই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এর মূল প্রণোদনা এসেছে অনুকূল ফসলের অবস্থা এবং কৃষি খাতে ভালো ফলনের প্রত্যাশা থেকে। অন্যান্য খাতও বছরের শেষ প্রান্তিকে দ্রুত সম্প্রসারণের হার দেখাচ্ছে, যখন মাসিক রফতানি প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।”