রাজধানী ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি এসব ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের সই করা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ডিবি পুলিশের হেফাজতে মুক্তার হোসেন ও শাহাদত হোসেন নামের দুই নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় আসক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
আসক মনে করে, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ও সাংবিধানিক কর্তব্য। এ ধরনের মৃত্যু আমাদের জাতীয় মানবাধিকার অঙ্গীকার, সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার প্রয়াসে নতুন করে আলোচনা ও মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
আসক আরও মনে করে, রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা কোনও ব্যক্তির মৃত্যু অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এটি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকারকে লঙ্ঘন করে। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের মৌলিক নীতির পরিপন্থি, যেখানে হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আইনগত ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
আসকের তথ্য সংরক্ষণ হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত শুধুমাত্র দেশের বিভিন্ন থানা হেফাজতসহ, র্যাব, পিবিআই ও ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) হেফাজতে রাখা অবস্থায় সারা দেশে কমপক্ষে ১৫ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে। এই সংখ্যাটি কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি দায়িত্বহীনতা, জবাবদিহিতার অভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে আসক। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোতে দায়ী ব্যক্তিদের দায় নিরূপণ করে আইনগত জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যা কোনোভাবেই উপেক্ষিত থাকতে পারে না। পাশাপাশি, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচারের অধিকার এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করাও অত্যাবশ্যক।