ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর ১০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের ঘটনায় চরমপন্থি সংগঠন ‘গণমুক্তিফৌজ’-এর সশস্ত্র কিলার বাহিনীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির ওরফে লিপটনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন।
এ দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আসামির উপস্থিতিতে গ্রেফতার দেখানোর শুনানি হয়। শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার বাদী বেলাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার চাই। যারা আমার সঙ্গে এমন করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’
গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীর কবির ওরফে লিপটনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কৃষ্ণদাস বৈরাগী। ওই দিন আদালত আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর শুনানির জন্য ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
এর আগে, গত ৬ জুন কুষ্টিয়ার দূর্বাচারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে লিপটনকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনীর একটি দল। তাকে সেখানকার কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেলাল হোসেনকে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডের এসবি কাউন্টারের সামনে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে হাত-পা, চোখ বেঁধে মাথায় কালো জম টুপি পড়িয়ে অপহরণ করে। ‘আয়নাঘরে’ ৩১ দিন গুম করে রাখে। মুক্তি পেতে হলে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। বেলাল হোসেন মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়। বেলাল হোসেন ১০ কোটি টাকা দিয়ে মুক্তি পান।
বাংলাদেশ গুম পরিবার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন গত ৩০ জানুয়ারি মিরপুর মডেল থানায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, নিলুফার আহমেদ, ডা. মোহাম্মদ শহীদুল বারী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. শফিউল আলম ও সাজ্জাদ আহমেদ।