অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, চট্টগ্রাম ও পানগাঁও বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত ‘অস্বচ্ছ ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী’। তড়িঘড়ি করে করা এই চুক্তি দেশের কৌশলগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে ‘বন্দর নিয়ে সরকারের তৎপরতা কেন জাতীয় স্বার্থবিরোধী?’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। মূল বক্তব্য পাঠ করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী।
সভায় বলা হয়, ২৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রামের লালদিয়ার চর ও পানগাঁও বন্দর যথাক্রমে ৩০ ও ২২ বছরের জন্য বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দিয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, পুরো প্রক্রিয়া গোপনীয়তা, তাড়াহুড়ো ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং মূল্যায়ন কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে অবহিতই করা হয়নি।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘কয়েক মাসের জন্য ক্ষমতায় থাকা একটি সরকার কেন ৪০-৫০ বছরের চুক্তি করবে তা উদ্বেগজনক।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের অস্থিরতা থাকা উচিত ছিল আইনশৃঙ্খলা, নারী নির্যাতন, মব সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে, কিন্তু বন্দর ইজারা নিয়ে অস্বাভাবিক তৎপরতা জনস্বার্থবিরোধী।’
বিদেশি বিনিয়োগ মানেই উন্নয়ন—এই ধারণাকে তিনি বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ৯০ শতাংশ আমদানি-রফতানি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়, সেখানে বিদেশি কর্তৃত্ব কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।’
দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বদলে সরকার বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দিতে চাইছে, যা অস্বচ্ছ ও বিপজ্জনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যে পিপিপি আইনের ৩৪ ধারা গোপনীয়তার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল, অন্তর্বর্তী সরকারও একই ধারা ব্যবহার করছে। চুক্তি হওয়ার পর তা প্রকাশে কোনও বাধা নেই; গোপন রাখার মানে জনস্বার্থবিরোধী কিছু ঘটছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, ‘বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না তা স্পষ্ট নয়।’
তিনি জানান, দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী বন্দর ব্যবহারের হিসাব করা হয় না এবং দুর্নীতির মূল ক্ষেত্র তৈরি হয় চুক্তির সময় ও কাস্টমসে। বিদেশি কোম্পানি এলেই দুর্নীতি কমবে—এ ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
বক্তারা বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে করা এই ইজারা চুক্তি দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী উদ্যোগের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সরব হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।