জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সবুজ বিনিয়োগের সুযোগে কার্বন মার্কেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার। তিনি বলেছেন, ‘জলবায়ু চ্যালেঞ্জকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির সুযোগে রূপান্তর করার সম্ভাবনা বাংলাদেশের রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশান-২ এর বে এজ গ্যালারিতে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট টক: এক্সপ্লোরিং এ রোবাস্ট কার্বন মার্কেট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাস।
রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় কার্বন বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’
আলোচনায় সরকারি-বেসরকারি খাত, শিক্ষাঙ্গন ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ৮০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য একটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্বন বাজার গড়ে তোলার সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত মোলার তার মূল বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ‘বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ কম ০.৪ শতাংশ হলেও দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম।’
তিনি বলেন, ‘এটিকে একদিকে জলবায়ু বৈষম্য হিসেবে দেখা যেতে পারে, আবার অন্যদিকে নেতৃত্ব ও বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সঠিক অংশীদারিত্ব ও নীতিমালা থাকলে বাংলাদেশ জলবায়ু-সংকটকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে রূপ দিতে পারবে। এ রূপান্তরে কার্বন বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
কার্বন ট্রেডিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আসন্ন নীতিগত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, ‘নভেম্বরে ন্যাশনাল কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক এবং ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট রেজিস্ট্রি প্রবর্তন কৌশলগত পদক্ষেপ যা জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগে পরিণত করতে পারে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন শাখার পরিচালক মির্জা শওকত আলী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু সমাধানের অগ্রণী উদাহরণ হয়ে ওঠার। আমরা বর্তমানে একটি কার্বন বাজার কাঠামো তৈরি করছি, যার মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগ আকর্ষণ, উদ্ভাবন উৎসাহিতকরণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায় ও অর্থনীতির উপকারে আসবে এমন স্বল্প কার্বন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।’
সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মোলার বাংলাদেশের সবুজ রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য ডেনমার্কের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর কার্বন বাজার গড়ে তুলতে সরকার, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সুস্পষ্ট নীতি এবং সহযোগিতা প্রয়োজন। আজকের সংলাপ এই আলোচনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’