দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু করেছে পাকিস্তান। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওমানকে তারা হারিয়েছে ৯৩ রানের ব্যবধানে।
শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং করা পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে ১৬০ রানে আটকে দিয়েছিল ওমান। ইনিংসটাকে হয়তো নিখুঁত বলা যাবে না, কিন্তু দুবাইয়ের স্লো উইকেটে ১৬০ রান ছিল যথেষ্ট! কারণ পাকিস্তানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৬.৪ ওভারে ৬৭ রানে অলআউট হয়েছে ওমান। স্পিনাররাই ছিলেন মূল কারিগর।
পাওয়ার প্লেতে ওমানের দুই ওপেনারকে তুলে তাদের চাপে ফেলেন অফস্পিনার সাইম আইয়ুব। বল হাতে উইকেট উৎসবে পরে যোগ দেন রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিম ও ডানহাতি পেসার ফাহিম আশরাফও। প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। তাছাড়া বামহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ ও লেগ স্পিনার আবরার নেন একটি করে উইকেট। শাহীন শাহ আফ্রিদিও শিকার করেন একটি।
ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ ওমান নিয়মিত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে। ডাবল ডিজিটে স্কোর করেছেন মাত্র ৩জন। হাম্মাদ মির্জা ২৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় করেন ২৭। ১১ বলে ১৩ রান করেন আমির কলিম। এছাড়া লেজের দিকে ২৩ বলে ১০ রান করেন শাকিল আহমেদ।
এদিন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে প্রত্যাবর্তন করেছেন পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ হারিস। ৪৩ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে ১৬০ রানে পৌঁছে দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন তিনি। হারিসের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছয়ের মার। ম্যাচসেরাও হন তিনি।
অবশ্য এই সংগ্রহের ভিত গড়ে দেওয়া হারিসের জন্য দলকে ভুগতেও হয়েছে। প্রথম পাঁচ ওভারে মাত্র দুইটি বাউন্ডারির সঙ্গে স্কোরবোর্ডে জমা হয় মাত্র। ওই সময় শূন্য রানে ফিরেছেন সাইম আয়ুব। শাহেবজাদা ফারহান জীবন পেয়েও কোনও রকমে খেলেছেন ২৯ বলে ২৯ রানের ইনিংস। তখনই উপরে উঠে ব্যাট করা হারিস দলের ইনিংসে ছন্দ ফিরিয়েছেন। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে আসে ১৬ রান। তার পর থেকেই শুরু হয় আক্রমণ। তখন পর্যন্ত হারিসের রান ছিল ১৮ বলে ১৬। এরপরের ২৫ বলে তুলে ফেলেন আরও ৫০ রান। তাতে রানরেটও চড়ে যায় প্রতি ওভারে প্রায় আট করে। তার পর অবশ্য ওমান আবার ম্যাচে ফেরে। বাঁহাতি স্পিনার আমির কলিম তুলে নেন হারিসকে। তাছাড়া তার প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে ফেরেন অধিনায়ক সালমান আগা। এই ধাক্কায় আবারও বাউন্ডারি খরা চলে ইনিংসে। টাইমিং খুঁজে পাননি ফখর জামান। ডেথ ওভারে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত হাসান নওয়াজও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ১৫ বলে করেছেন মাত্র ৯ রান। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ নওয়াজ এসে ১৭তম ওভারে ছোট্ট ক্যামিও খেলে দলকে টেনে নিয়ে যান দেড়শ প্লাস ইনিংসে। ১০ বলে ৪টি চারে ১৯ রান করেছেন তিনি।
ওমানের হয়ে ৩১ রানে তিনটি উইকেট নেন আমির কলিম। ৩৪ রানে তিনটি উইকেট নেন শাহ ফয়সালও। একটি নিয়েছেন মোহাম্মদ নাদিম।