‘সে চার বছর সংসার করে আমাকে বলে বাজে মেয়ে। আমি নাকি কলগার্ল। আমি হিরো আলমের দ্বারা সাইবার বুলিংয়ের শিকার। সে হুমকি দেয়, খেলা জমবে আমি হিরো আলম। তার সঙ্গে লিখিত আপোশ হয়নি আমার। এতদিন আমার জিম্মায় ছিল সে। হিরো আলম নৃশংস ভাবে মিডিয়ার সামনে আমাকে তালাক দেয়’—সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন রিয়া মনি।
এরপর বিচারক হিরো আলমকে লক্ষ্য করে বলেন, আপনি তাকে ভয়ভীতি দেখান? হিরো আলম বলেন, না স্যার। আর কখনও ভয়ভীতি দেখাবেন? হিরা আলম বলেন, না স্যার। আর একটাও শব্দ করবো না।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে সাবেক স্ত্রীর (রিয়া মনি) করা মামলায় ২০০ টাকা মুচলেকা দেওয়ার শর্তে হিরো আলমের জামিন দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক রাকিবুল হাসান এ আদেশ দেন। দুপুরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
এসময় হিরো আলমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শান্তা সাকসিনা এ মামলায় জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, হিরো আলম এমন নিরীহ লোক যাকে পেলে সবাই মারে। এই মামলায় আসামির দ্বারা যে ভুলটা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি আর হবে না। কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এসময় তিনি আদালতের কাছে হিরো আলমের জন্য দয়া, করুনা অনুকম্পার আবেদন করেন।
অপরদিকে জামিন শুনানির বিরুদ্ধে শুনানি করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান চৌধুরী রুবেল। তিনি শুনানিতে বলেন, হিরো আলম এ মামলায় চারবার হাজিরা দেননি। সুতরাং তিনি কোর্ট অবমাননা করেছেন। এছাড়াও হিরো আলম দুধ দিয়ে গোসল করে বাদীকে এক ধরনের অপমান করেছেন।
বাদীপক্ষের এ আইনজীবী হিরো আলমের জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, তাকে এত পুলিশ দিয়ে প্রোটোকল দিয়ে এনে জামিন দেওয়া হলো। এমন করে তো আদালতে বড় বড় ব্যক্তিদেরও আনা হয় না।
এর আগে গত বুধবার আলোচিত এ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তার সহযোগী আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালত।
এসময় হিরো আলম আর এমন বুলিং না করার জন্য আদালতের কাছে অঙ্গীকার করেন। কথা দেন বাঁকা চোখেই তাকাবেন না এবং ফেসবুকে কিছু লিখবেন না। পরে দুইশো টাকা মুচলেকা দেওয়ার শর্তে জামিন দেন আদালত।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মামলার বাদী রিয়া মনি ও হিরো আলমের মধ্যে মনোমালিন্য হলে তাকে (রিয়া মনি) ডিভোর্স দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়। পরবর্তী সময়ে গত ২১ জুন আসামির সঙ্গে বাদী মীমাংসা করার জন্য হাতিরঝিল এলাকায় এক বাসা ডাকে। ওইদিন বাদী তার পরিবার নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। পরবর্তী সময়ে বাদীর বর্তমান বাসায় ঠিকানায় আসামি হিরো আলমসহ ১০ থেকে ১২ জনসহ বেআইনিভাবে বাসায় ভেতরে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশে কাঠের লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাথাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করে। এসময় বাদীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেন কৌশলে তারা চুরি করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় গত ২৩ জুন হাতিরঝিল থানায় রিয়া মনি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।