সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি এবং নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলাগুলো খারিজ করে দিয়েছেন এক মার্কিন বিচারক। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দেওয়া রায়ে বিচারক ক্যামেরন কারি বলেছেন, যিনি এসব মামলা করেছিলেন, সেই প্রসিকিউটরের নিয়োগই ছিল বেআইনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ক্যামেরন কারি বলেন, লিন্ডসি হ্যালিগানকে ট্রাম্প তার দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বেছে নিয়েছিলেন। তিনি এই পদে থাকার জন্য কখনোই যোগ্য ছিলেন না।
কোমি ও জেমস দুজনেই তাদের নির্দোষ দাবি করেছেন এবং এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউজ বিবিসিকে জানায়, “কোমি ও জেমসের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের তথ্য পরিবর্তিত হয়নি এবং এই রায়ে বিষয়টির শেষ হচ্ছে না।”
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কোমি ও জেমসকে আক্রমণ করেছেন। এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি বলেছেন, “ওরা সবাই ভীষণ অপরাধী” এবং পরে তিনি আরও বলেন, “এখনই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে!!!”
বিচারক কারি বলেন, সাবেক হোয়াইট হাউজ সহকারী হ্যালিগান এর আগে কখনও কোনও মামলা পরিচালনা করেননি—তিনি গ্র্যান্ড জুরির সামনে অভিযোগপত্র উপস্থাপন করার অধিকারী ছিলেন না।
কারি রায় দেন, “হ্যালিগানের ত্রুটিযুক্ত নিয়োগ থেকে উদ্ভূত সব পদক্ষেপ—এর মধ্যে কোমির অভিযোগপত্র নিশ্চিত করা ও স্বাক্ষর করা—আইনগতভাবে বেআইনি নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এগুলো বাতিল করা হলো।”
হ্যালিগানকে এরিক সিবার্টের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। সিবার্ট ছিলেন এক অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি। ট্রাম্প প্রশাসনের কোমি ও জেমসের বিরুদ্ধে মামলা করার চাপের মধ্যে তিনি সেপ্টেম্বর মাসে পদত্যাগ করেছিলেন।
বিচারক কারি সিদ্ধান্তে বলেন, হ্যালিগানের নিয়োগ অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি নিয়োগসংক্রান্ত আইনের লঙ্ঘন। সেই আইনে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের ১২০ দিন সময় থাকে অন্তর্বর্তীকালীন নিয়োগ দেওয়ার জন্য—যা শুরু হয় ২১ জানুয়ারি সিবার্টের নিয়োগের মাধ্যমে।
২১ মে সেই ১২০ দিনের মেয়াদ শেষ হলে অ্যাটর্নি জেনারেলের অন্তর্বর্তীকালীন নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতাও শেষ হয়ে যায়। ফলে ২২ সেপ্টেম্বর হ্যালিগানের নিয়োগের পর থেকে তিনি “বেআইনিভাবে ওই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন”।
মামলাগুলো “উইদআউট প্রেজুডিস” হিসেবে খারিজ করা হয়েছে—অর্থাৎ বিচার বিভাগ চাইলে পরে আবার মামলা করতে পারে।
বিচার বিভাগ বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, বিচার বিভাগ খুব শিগগিরই কোমি ও জেমসের মামলাগুলো খারিজ হওয়ার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের অবস্থান হলো হ্যালিগানের নিয়োগ বৈধ ছিল। লেভিট আরও অভিযোগ করেন যে, বিচারক “কোমি ও জেমসকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন”।
রায়ের পর কোমি বলেন, বিদ্বেষ ও অযোগ্যতার ভিত্তিতে করা এই মামলা শেষ হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। তবে উল্লেখ করেন, “ট্রাম্প সম্ভবত আবারও আমার পিছু নেবেন।”
২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত পরিচালনার পর, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কোমিকে বরখাস্ত করেছিলেন।
সাবেক এফবিআই পরিচালককে সেপ্টেম্বরে মিথ্যা বিবৃতি প্রদান ও বিচার ব্যাহত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়ে একটি নতুন ফেডারেল প্রসিকিউটর নিয়োগ দেন।
জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি “আজকের জয়ে উৎসাহিত”। তিনি আরও বলেন, “এই ভিত্তিহীন অভিযোগগুলোকে আমি ভয় পাই না। নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য প্রতিদিনই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
জেমস ব্যাংক জালিয়াতি এবং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার ফেডারেল অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার আগে জেমস তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন এবং এরপর থেকেই তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।