ঢাকায় চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় যশোরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ‘যশোরবাসীর সম্মিলিত দোয়া-মোনাজাতের’ আয়োজন করে জেলা বিএনপি।
এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষজন অংশ নেন। জেলার শীর্ষ আলেমরা মোনাজাতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল নামে। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ঈদগাহ ময়দান। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ‘আমিন-আমিন’ ধ্বনিতে গোটা এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়া। তার সুস্থতা কামনায় যশোরে দোয়া মাহফিলের আয়োজন পূর্ব ঘোষণা ছিল বিএনপির। ঘোষণা অনুযায়ী আজ আসরের নামাজের পর ঈদগাহ মাঠে ছিল দোয়ার আয়োজন। কিন্তু বিকাল ৪টা থেকেই মানুষের ঢল নামে ঈদগাহ মাঠে। অন্তত ২০ হাজার মানুষ ঈদগাহ মাঠে আসরের নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর শুরু হয় দোয়া মাহফিল। এতে অনেকে কান্না শুরু করেন। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন সবাই। দোয়া পরিচালনা করেন জেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি আব্দুল মান্নান।
দোয়া মাহফিলে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যশোরের প্রধান সমান্বয়ককারী নূরুজ্জামান বলেন, ‘খালেদা জিয়া একটি দলের প্রধান হলেও অন্য অনেক দলের কাছেও শ্রদ্ধেয়। এর কারণ হলো রাজনীতির শুরু থেকেই আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। পারিবারিক বৃত্তের বাইরেও বিএনপির মতো একটি বড় দলকে সার্বজনীন করতে পেরেছিলেন। তাই তার অসুস্থতা নিয়ে সব মহলেই উদ্বেগ আছে। এজন্য দোয়া মাহফিলে মানুষের ঢল নামে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আমরা উনার সুস্থতা কামনা করছি।’
দোয়ায় অংশ নেওয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসূল বলেন, ‘খালেদা জিয়া রাজনীতিতে কখনও আপস করেননি। দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে তার অবদান প্রশংসিত। হঠাৎ অসুস্থতায় দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে তার জনপ্রিয়তা। আমরা দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের বাকস্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সংগ্রামে আপসহীনতা দেখিয়েছেন। সে কারণে তিনি দলের ঊর্ধ্বে ওঠে জাতির অভিভাবক হিসেবে আর্বিভূত হয়েছেন। তার অসুস্থতার কারণে দেশবাসী দোয়া করছেন। তিনি দেশের মতো যশোরের উন্নয়নেও কাজ করেছেন। তাই দলবল নির্বিশেষে তার প্রতি সাধারণ মানুষ এতো ভালোবাসা প্রদর্শন করছেন। জনগণের দোয়ায় সৃষ্টিকর্তা তাকে সুস্থ করে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেবেন।’
দোয়া ও মুনাজাতে অংশ নেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর শহর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইসমাইল হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব ফিরোজ শাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির জেলা সভাপতি নিজামুদ্দিন অমিত, যশোর সরকারি এম এম কলেজের শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল কাদের, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) যশোর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আবু আহসান লাল্টু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।