ভারত সফরে থাকা তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে নারী সাংবাদিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে দেশটির বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। এই ঘটনায় নারীদের সম্মান রক্ষায় অবস্থান নিতে মোদি সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে ক্ষোভ ঝেড়েছেন অনেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাসে আমির খান মুত্তাকির অংশগ্রহণে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ১৬ জন পুরুষ সাংবাদিক থাকলেও নারী এবং অন্যদেশের সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দৃঢ় অবস্থান না নেওয়ায় চলছে সরকারের তীব্র সমালোচনা।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, এই সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসলে দেশের প্রতিটি নারীকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তাদের পক্ষে দাঁড়ানোর সামর্থ্য সরকারের নেই।
এদিকে, আত্মপক্ষ সমর্থন করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগান দূতাবাসের আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল না। তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য স্বীকার করা হয়েছে যে নারী সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
তালেবান সরকারের এক সদস্য বিবিসিকে জানায়, সমন্বয়ের অভাবে নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া হয়েছিল, তবে দিল্লিতে এরপর সম্মেলন হলে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
মুত্তাকি বর্তমানে ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সপ্তাহব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। শুক্রবার তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেন জয়শঙ্কর।
উল্লেখ্য, মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার পর তালেবান ক্ষমতায় এলে দূতাবাসের মর্যাদা অবনমন করে কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত করে ফেলা হয়।
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান সরকার শরিয়াহ আইনের ব্যাখ্যার নামে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাধীনতায় একচেটিয়া বহু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
পুরুষ সাংবাদিকদের একতরফা অংশগ্রহণে ওই অনুষ্ঠানের পর রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আমাদের দেশে নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণের অধিকার রাখেন।
মোদিকে তার অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র বলেন, ভারতের সবচেয়ে দক্ষ নারী সাংবাদিকদের অপমান করার সুযোগ কীভাবে দেওয়া হলো! এমন এক দেশে যেখানে নারীরাই তার মেরুদণ্ড ও গর্ব!
বহু রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুরুষ সাংবাদিকদের প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল।
রাজনীতিবিদ মহুয়া মৈত্র লিখেছেন, আমাদের পুরুষ সাংবাদিকরা কেন মেরুদণ্ডহীনের মতো সেখানে বসে রইলেন? তালেবান মন্ত্রীর এই আচরণ মেনে নিয়ে সরকার ভারতের প্রতিটি নারীকে অপমান করেছে। এটা লজ্জাজনক, কাপুরুষোচিত ও ভণ্ডামির উদাহরণ বৈ কিছু নয়।