‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পাবে’

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পাবে’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং তারা ভোটাধিকার ফিরে পাবেন। এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সবার মনে সন্তুষ্টি ও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুর ২টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় অফিস সেক্রেটারি মাওলানা আফম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং প্রচার সহকারী আব্দুস সাত্তার সুমন।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের মামলাটির সঙ্গে জড়িত সব আইনজীবী, পক্ষভুক্ত ব্যক্তিরা এবং আদালতকে সহযোগিতাকারী সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তাদের ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাসিনা ২০১১ সালে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেশকে এক অন্ধকার যুগে ঠেলে দিয়েছিলেন। আজকের রায়ের মাধ্যমে জাতি সেই অন্ধকার থেকে পুনরায় মুক্তি লাভ করেছে।

জামায়াতের এই নেতা জানান, নির্দলীয় এ সরকার ব্যবস্থার দাবিতে জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯৬ সালে সংবিধানে যুক্ত হয় এবং পদ্ধতিতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। মূলত তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি ঘোষণা করা হয়। যা ছিল সরাসরি ভোটবিহীন নির্বাচন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের মাধ্যমেই ওই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। একইভাবে ২০১৮ সালে আগের দিন রাতে ব্যালটে সিল মেরে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনও ছিল—আমি, তুমি ও ডামি নামে পরিচিত এক ভুয়া ভোটগ্রহণের নাটক; যা বিরোধীদলগুলো বর্জন করে।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তোলে এবং ৫ আগস্ট সেই সরকারের পতন ঘটে। জুলাই বিপ্লবের পর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। আপিলের রায়ের মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়িত হলো। রায় অনুযায়ী ১৪তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin