রেল যোগাযোগ বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে একটি সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন মাধ্যম। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন মূলত এর সাশ্রয়ী ভাড়া ও তুলনামূলক নিরাপদ ভ্রমণের কারণে।
তবে ট্রেন ভ্রমণে একটি স্পষ্ট বৈষম্যের বিষয় চোখে পড়ে। যাত্রীরা মূলত দুই ধরনের টিকিট পান—একটি সিটসহ, অপরটি সিট ছাড়া বা স্ট্যান্ডিং টিকিট। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দুই ধরনের টিকিটের ভাড়া একই। ফলে অনেকের মাঝেই অসন্তোষ দেখা দেয়।
বাস্তবে সিট টিকিটধারী যাত্রী নির্দিষ্ট আসনে বসে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারেন। বিপরীতে স্ট্যান্ডিং টিকিটধারীকে পুরো পথ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, গাদাগাদি ভিড়ে নড়াচড়া করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। এতে শুধু শারীরিক দুর্ভোগই বাড়ে না, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যায়। তারপরও উভয় টিকিটের ভাড়া এক হওয়াটা প্রকৃত অর্থেই এক ধরনের বৈষম্য ও যাত্রীদের প্রতি অবিচার।
একই ভাড়ায় কেউ যদি আসনে বসে যাত্রা করেন আর অন্য কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন—তাহলে প্রশ্ন উঠবেই, ভাড়া কাঠামোয় ন্যায্যতা কোথায়? রেলওয়ের মতো জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানের কাছে তাই প্রত্যাশা—যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই ভাড়ার বৈষম্য দূর করা হবে।
হুমায়ুন আহমেদ
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়