ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন: ডিএমপি কমিশনার

ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) কর্তৃক ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্ট (ডিআরএসপি) এর সমাপনী উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অবহিতকরণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ঢাকা মহানগরের অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে যানজট অন্যতম। যানজটের কারণগুলো অনুসন্ধান করে তা সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।  

নগর পরিকল্পনায় দূরদর্শিতার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাদের নগর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ জনগণ সড়ক পরিবহন আইন মেনে চললে এবং সচেতন থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মি. তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, ডিআরএসপি কেবল একটি প্রজেক্ট নয় এটি একটি প্রতিজ্ঞা। ঢাকা মহানগরীর সড়ক অধিকতর নিরাপদ করার প্রত্যয়ে ২০২১ সালে এ প্রজেক্টের যাত্রা আরম্ভ হয়। এ প্রজেক্টের আওতায় ডিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তিনি সন্তোষ জ্ঞাপন করেন।  

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ জাপানের অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স (ওডিএ) গ্রহণকারী অন্যতম শীর্ষ দেশ যার পরিমাণ বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার এবং ভবিষ্যতেও জাইকা বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা এমন একটি প্রক্রিয়া যা সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে শুরু হয়, সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং টেকসই অঙ্গীকারের মাধ্যমে সফল হয়।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ড. মো. জিললুর রহমান। তিনি বলেন, জাইকার অর্থায়নে ডিআরএসপি সফল পরিসমাপ্তির পথে। এর মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ঢাকা মহানগরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে মর্মে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাইকা সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছরে এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোসহ সড়ক নিরাপত্তায় গণসচেতনতা বাড়াতে ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৪০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি, অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিআরটিএ ও বিআরটিসির প্রতিনিধি, জাইকা কর্মকর্তারা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার বিপিএম (অতিরিক্ত আইজি), অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. মাসুদ করিমসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এজেডএস/আরআইএস

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin