চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করেছে। এই সময়ে মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে কোনও অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সর্বোচ্চ রাজস্ব সংগ্রহ।
গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একইসময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আদায় বেড়েছে প্রায় ১৫ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধি হিসেবে দাঁড়ায় ২০ দশমিক ২১ শতাংশ।
মূসক খাতে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়
প্রথম তিন মাসে স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে আদায় হয়েছে ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা—যা এখন পর্যন্ত কোনও প্রান্তিকে সর্বাধিক। আগের অর্থবছরে একইসময়ে এই খাতে আদায় ছিল ২৬ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূসক খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
রাজস্ব কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বাড়ার ফলে মূসক আদায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আয়কর ও ভ্রমণ করেও রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আদায় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের (২৪ হাজার ৮০ কোটি টাকা) তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।
এনবিআর বলছে, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি, রিটার্ন দাখিলের হার বাড়া এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর মনিটরিংয়ের ফলে আয়কর খাতে এই সাফল্য এসেছে।
আমদানি-রফতানি খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আমদানি ও রফতানি খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। আগের বছরের একইসময়ে আদায় ছিল ২৪ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ও ডলার বাজারে আংশিক স্বস্তি ফিরতে শুরু করায় শুল্ক আদায়ে এই উন্নতি দেখা দিয়েছে।
তিন খাতেই নতুন রেকর্ড
এনবিআর জানিয়েছে, আয়কর ও ভ্রমণ কর, মূসক এবং আমদানি-রফতানি—তিন খাতেই রাজস্ব আদায়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, কর ফাঁকি প্রতিরোধ, করের আওতা বৃদ্ধি এবং মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকির ফলে এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এনবিআরের অঙ্গীকার
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, ‘রাজস্ব আদায়ের এই ইতিবাচক ধারাকে আরও বেগবান করতে কর ফাঁকি প্রতিরোধ, কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ এবং বকেয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধারে আমাদের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম প্রান্তিকের এই সাফল্য যদি টেকসই হয়, তবে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, কর পরিপালন সংস্কৃতি গড়ে না উঠলে বছরের শেষভাগে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।