‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
খসড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ‘অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অধিক মুনাফা অর্জন অপেক্ষা নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র, বৈচিত্র্য ও তহবিলের তারল্য সংরক্ষণকে প্রাধান্য দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রত্যেক আমানতকারীর জন্য সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ টাকার পরিবর্তে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৯৩ শতাংশ আমানতকারীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়। এছাড়া প্রতি ৩ বছরে কমপক্ষে একবার ট্রাস্টি বোর্ডের সুপারিশক্রমে এ সর্বোচ্চ সীমা পুনঃনির্ধারণ করার বিধান রাখা হয়েছে।’
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আমানত সুরক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনে আমানত সুরক্ষা বিভাগ নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠন করা যাবে যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য বিভাগ হতে স্বতন্ত্র ও পৃথক হবে। অধ্যাদেশ জারীর পর পূর্বের আইন অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত তফসিলি ব্যাংক কোম্পানিসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তহবিলের সদস্য হিসেবে গণ্য হবে। নতুনভাবে লাইসেন্স পাওয়া তফসিলি ব্যাংক কোম্পানিগুলো এ অধ্যাদেশের অধীনে সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হবে এবং লাইসেন্স প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দিবে। বিদ্যমান লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সকল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে এ অধ্যাদেশের অধীন সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হবে এবং ওই বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ০.৫০ শতাংশ হারে অথবা ট্রাষ্টি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হারে বা পরিমাণে হবে। তবে তা কোনভাবেই পরিশোধিত মূলধনের ০.৫০ শতাংশের কম হবে না। আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ব্যাংক কোম্পানি ও ফাইন্যান্স কোম্পানিসমূহের রেজোল্যুশনের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।