আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ মেয়াদে দ্বাদশ সংসদ সদস্যদের জন্য আমদানি করা ৩০টি গাড়ি সরকারকে দেওয়া হচ্ছে। নিলামে ভালো দর না পাওয়ায় এসব গাড়ি এখন সরকারকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইতিমধ্যে এনবিআর থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর এসব গাড়ি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এসব গাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য ১২ কোটি টাকা। নিলামে বিক্রি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রথম নিলামে এসব গাড়ির দর উঠেছে এক লাখ থেকে তিন কোটি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। যে কারণে প্রথম নিলামের পর এসব গাড়ির দ্বিতীয় নিলাম স্থগিত করা হয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত বছরের জুন-জুলাই মাসে এমপিরা জাপান থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় এসব গাড়ি আমদানি করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং এর সঙ্গেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল করে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে গাড়িগুলো দেশে এসে পৌঁছায়। গাড়িগুলো টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার মডেলের।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ২৪টি গাড়িসহ মোট ৪৪টি নিলামে তোলা হয়। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে দরপত্র দাখিল প্রক্রিয়া শুরু হয়। দরপত্র জমা কার্যক্রম চলে ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত। আগ্রহীদের দেওয়া দরপত্র খোলা হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। নিলামে ৪৪টি গাড়ির বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছিল ১৩৭টি। এ ছাড়া সাবেক এমপিদের ২৪টি গাড়ির মধ্যে দরপত্র জমা পড়েছে ১৪টিতে। এসব গাড়ি কিনতে ৩২ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করেছে। গাড়িগুলোতে সর্বোচ্চ ১ লাখ থেকে ৩ কোটি ১০ টাকা পর্যন্ত দর দিয়েছেন আগ্রহী ক্রেতারা। ১০টি গাড়িতে কোনও দরপত্র জমা পড়েনি।
নিয়মানুযায়ী প্রথম নিলামে র্নিধারিত দরের ৬০ শতাংশ বা তার বেশি যিনি সর্বোচ্চ দর দেবেন, তার কাছে বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে। এ হিসেবে ন্যূনতম ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা দর পড়লে বিক্রির সুযোগ ছিল। অথচ সাবেক সংসদ সদস্যদের কোনও গাড়িতেই এত দর ওঠেনি। বিধি অনুযায়ী, দ্বিতীয় নিলামে প্রথম নিলামের চেয়ে দর বেশি উঠলে বিডারের বিপরীতে গাড়ি হস্তান্তর করতে বাধ্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এক্ষেত্রে সরকার অন্তত দেড়শ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হতো। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ে প্রকৃত মূল্য ঠিক রেখে গাড়ি বিক্রির উপায় খুঁজতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বারস্থ হয় চট্টগ্রাম কাস্টমস। পরবর্তীতে এসব গাড়ির দ্বিতীয় নিলামের আয়োজন করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়। জাপানে প্রস্তুতকৃত ২০২২ মডেলের এসব গাড়ির প্রতিটির আমদানি মূল্য দেড় কোটি টাকা হলেও ৮০০ শতাংশ শুল্কের কারণে বাংলাদেশে বাজারমূল্য ১২ কোটির বেশি। কিন্তু সংসদ সদস্য হওয়ায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়িগুলো আমদানি করা হয়।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের উপকমিশনার এইচ এম কবিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুল্কমুক্ত সুবিধায় সাবেক সংসদ সদস্যদের আমদানি করা ৩০ গাড়ি সরকারের পরিবহন অধিদফতরে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। আমরা চিঠি হাতে পেয়েছি। কিছু প্রক্রিয়া আছে সেগুলো শেষ করে এসব গাড়ি শিগগিরই পরিবহন অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’