রাসেল আহমেদ:
স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ধারণা পুরনো হলেও স্টারলিংক এটিকে আধুনিক রূপ দিয়েছে। পৃথিবীর আকাশে সাড়ে আট হাজার স্যাটেলাইট বসিয়ে বাসাবাড়িতে পৌছে দেয়া হচ্ছে উচ্চগতির ইন্টারনেট। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় গ্রাউন্ড স্টেশন। আর কোথাও কোথাও অনেক দেশের জন্য একটি ‘স্টারলিংক হাব’।
বাংলাদেশে তেমন হাব বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে স্টারলিংক। যেটি এখনও বিবেচনাধীন। যেখান থেকে সেবা দেয়া হবে ভুটান, নেপালসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে।
এজন্য মুলত ভূমি থেকেই ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হয়। সেটি হাবে বসানো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এন্টেনার মাধ্যমে তা স্যাটেলাইটে পাঠানো হবে। স্যাটেলাইট থেকে সেটি পৌঁছে যাবে বাসাবাড়ির ছোট এন্টেনা বা কীটে। এভাবেই এক স্থান থেকে দূরদূরান্তে এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও পৌঁছে যায় স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি।
বাংলাদেশে স্টারলিংকের হাব বসানোর প্রস্তাবকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি কাজে লাগিয়ে দেশের অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ রফতানি করা সম্ভব।
তবে চুক্তির ক্ষেত্রে দেশীয় স্বার্থ রক্ষায় সজাগ থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তা নাহলে অসম চুক্তি দেশের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে উল্টো ক্ষতি করবে এবং দর নির্ধারণ, মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি ও যন্ত্রাংশ যাচাই করার পরামর্শ দিলেন তারা।
প্রযুক্তিবিদ রাফেল কবির বলেন, গত সরকার এবং বর্তমান সরকার চেষ্টা করেছে, আমাদের উদ্বৃত্ত যে ব্যান্ডউইথ আছে, এটা অন্য দেশে রফতানি করে কিছু টাকা আয় করতে পারে কি না এবং আমাদের যে বিনিয়োগ আছে সেটি তুলে আনতে পারে কি না। স্টারলিংক এই জিনিসটা করার সুযোগ দিচ্ছে এবং এখানে আমাদের কোনও কিছুই কষ্ট করতে হচ্ছে না। বাজার উনারা খুঁজে বের করবেন। পাশাপাশি একটা বিষয় প্রতিষ্ঠিত হবে, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ভালো জায়গা।
এতে প্রযুক্তি নিরাপত্তার কোনও ঝুঁকি নেই বলে মনে করেন তারা। বরং ইলন মাস্কের বিনিয়োগ বাকিদের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। এই বৈদেশিক বিনিয়োগ ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মত তাদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল বলেছেন, চীন বা অন্য দেশের ব্যাপারে আমেরিকা যে সন্দেহগুলো করে সেটা যদি বাস্তবায়ন করে তাহলে হয়তো বলা যায়, তারা হয়তো ডেটাটা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারে আরকি। কিন্তু এখানে কোনও কিছু যদি বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে এটা অন্য যে সিস্টেমগুলো আছে তার মতোই কাজ করবে।
তাদের মতে, দেশের স্বার্থ রক্ষা নির্ভর করবে চুক্তির ওপর। তাই সে বিষয়ে সরকারকে সজাগ থাকার পরামর্শ তাদের।
রাফেল কবির বলেন, অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারকে অসম্ভব সজাগ থাকতে হবে। কারণ, প্রাথমিকভাবে উনারা ব্যান্ডউইথ লোকালি কিনছেন। স্টারলিংক যেহেতু বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ নিচ্ছে, অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত হওয়া উচিত যে, এই ব্যান্ডউইথের মধ্যে যত শতাংশ বাংলাদেশি গ্রাহকদের দেবে সেটা ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে স্থানীয়ভাবে পেমেন্ট করতে পারো। বাকি যেগুলো বিদেশে যাবে সেগুলোর পেমেন্ট ডলারে দেয়ার।
স্টারলিংকের লক্ষ্য, পুরো বিশ্বকে তার নেটওয়ার্কে নেয়ার। এরইমধ্যে ১০০ এর বেশি দেশে পৌঁছেছে তাদের কাভারেজ।
/এমএন