মার্কিন প্রশাসনের অনুমোদনে পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ (নিউক্লিয়ার সাবমেরিন) তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তর কোরিয়া বলেছে, এই সিদ্ধান্তে ওই অঞ্চলে ‘পারমাণবিক ডোমিনো প্রভাব’ বা নিউক্লিয়ার ডোমিনো ইফেক্ট দেখা দেবে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ডোমিনো তত্ত্ব হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি ধারণা। এতে বলা হয়, ডোমিনো সাজানোর পর, একটি ফেলে দিলে যেমন ধাপে ধাপে সবগুলো পড়ে যেতে থাকে, তেমনি কোনও একটি ঘটনার রেশ আঞ্চলিকভাবে অন্যান্য দেশের ওপরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তরফে শুক্রবার যৌথভাবে প্রকাশিত এক নথিতে গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠকে হওয়া চুক্তির বিবরণ তুলে ধরে। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার নিষ্ক্রিয় করার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াকে পারমাণবিক চালিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিন নির্মাণের অনুমতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র—যা সিউলের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা।
এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দিক থেকে উত্তর কোরিয়া বিরোধী মুখোশ উন্মোচন করেছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ’তে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়, দুই দেশের যৌথ বৃহৎ সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে।
পিয়ংইয়ং অভিযোগ করে, সিউল গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যা আঞ্চলিক “পারমাণবিক ডোমিনো ঘটনা” সৃষ্টি করবে এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দেবে।
তবে সাবমেরিন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রেসিডেন্ট লি বলেছেন, চীনের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বজায় রাখতে এবং উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন উন্নয়নের প্রচেষ্টার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এসব সাবমেরিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কাং ইউ-জুং মঙ্গলবার বলেন, উত্তর কোরিয়ার প্রতি সিউলের কোনও বৈরী উদ্দেশ্য নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সিউলের কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক হং মিন বলেন, উত্তর কোরিয়ার বক্তব্যে বোঝা যায়, উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত পিয়ংইয়ং সংলাপে আগ্রহী নয়।
তবে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য প্রস্তুত। একটি কার্যকর পারমাণবিক চুক্তির জন্য ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দু নেতার তিনবার বৈঠক হয়েছিল, তবে কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।