বাংলাদেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের রফতানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যথাযথ ব্র্যান্ডিং, বিপণন কৌশল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা জরুরি।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সিএমএসএমই খাতের ব্র্যান্ডিং ও বিপণন চ্যালেঞ্জ: রফতানির সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা এ মত দেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘‘নিজেদের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড তৈরি করতে না পারায় রফতানি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত হচ্ছে না।’’ তিনি জানান, ২০১৯ সালের এসএমই নীতিমালা পুনর্গঠনের কাজ চলছে, যেখানে নতুন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণে দূতাবাসগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘‘দেশের শিল্প খাতের প্রায় ৯০ শতাংশই সিএমএসএমই, যেখানে কর্মরত আছেন প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ মানুষ। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২৮ শতাংশ হলেও শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে অবদান প্রায় ৫০ শতাংশ।’’ তিনি অভিযোগ করেন, ঋণ সহায়তার অপ্রতুলতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, দক্ষতার ঘাটতি, নীতি সহায়তার অভাব, বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে পড়া—এসব কারণে এ খাতের সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সাম্প্রতিক পাল্টা শুল্কারোপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তাদের ব্যয় সাশ্রয়ী উদ্ভাবন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর নজর দিতে হবে। একইসঙ্গে ব্র্যান্ডিং, মানোন্নয়ন, কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেশন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।’’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘বিসিক উদ্যোক্তাদের জন্য শিল্প পার্ক, স্বল্প সুদের ঋণ এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তবে পণ্যের আকর্ষণীয় প্যাকেজিং ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর দিকে উদ্যোক্তাদের মনোযোগী হতে হবে।’’
ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘‘রফতানি প্রসারে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।’’ তিনি জানান, শিগগিরই ইপিবিতে রফতানি ইকো-সিস্টেম ও সিএমএসএমই হেল্প ডেস্ক চালু হবে। আগামী বছরে ব্রাজিলের বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক, জুট ও অন্যান্য রফতানি খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, সংস্কৃতি ও ভোক্তাদের রুচি বিবেচনায় ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং এবং মাননিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে ক্লাস্টার গড়ে তোলা, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্টার্টআপ সহায়তা, ইনোভেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি ক্রয়নীতিতে দেশীয় এসএমই অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
সভায় ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।