যারা নির্বাচন নস্যাৎ করতে চায়, তারা সর্বশক্তি দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের প্রথম দিনের সমাপনী বক্তব্য শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের টেকনোলজি মাইট ফেইল। সাইবার সিকিউরিটি মেবি এট স্টেক হ্যাকিং হতে পারে। এ প্রশ্নগুলো কনসালটেন্টকে করেছিলাম। যদি নির্বাচনের দিন আমাদের এটা হ্যাক হয়ে যায়, তারপর কী হবে। আর উই প্রিপায়ার্ড টু রেইজ দিস।’
তিনি বলেন, ‘যদি তারা সাইবার অ্যাটাক করে, ম্যালওয়ার ঢুকায়ে দেয়...যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভই সেইফ না, সেখানে আমার পোস্টাল ব্যালট কতটুকু সেইফ বুঝতে হবে।’
পোস্টাল ব্যালটে কী কী চ্যালেঞ্জ হতে পারে তা বের করতে নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট মে রেইজ ডিবেটস। এটা পরের দিকে ডিবেট হতে পারে। ইট মে রেইজ লট অফ কোয়েশ্চেনস এজ ওয়েল। এটা আমরা জানি। তারা (কনসালটেন্ট) আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন।’
সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্য ড. নিয়াজ আহমদ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন সবার সহযোগিতায় হয়েছে। এটা শুনে মনে হতে পারে আমরা একটা পাইওনিয়র ধারণা নিয়ে কাজ করেছি। সবাইকে একটু উপদেশ দেওয়ার পর্যায়ে এসেছি। এটা আসলে ভুল ধারণা। আমরা এক রকম যুদ্ধের ভেতর দিয়ে গেছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমত ধরে নিতে হবে যে যারা নির্বাচনে হারবেন তারা অসন্তুষ্ট থাকবেন। শিষ্টাচার বলে কিছু থেকে থাকে সেটির ওপর ভরসা করা যাবে না। সেফগার্ড মেজার নিয়ে নামতে হবে। মানে আশেপাশে যত মিডিয়া বা সিসিটিভি রাখা যায়। যত চোখ আশেপাশে রাখা যায়। ধরে নিতে হবে এই ব্যাপারটি চ্যালেঞ্জিং হবে। আমরা সাংবাদিকদের পাশে পেয়েছি। তাদের সঙ্গে সব সময় কথা বলেছি। কখনও কখনও বিরক্তিকর কথাবার্তাও তাদের সঙ্গে হয়েছে। কিন্তু তাদের সাপোর্ট অমূল্য। তাদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্যালট বক্স খেলা থেকে গোণা পর্যন্ত সাংবাদিকরা ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইটির ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যেহেতু অবকাঠামোগত দুর্বলতা আছে, তাই বারবার টেস্ট করা প্রয়োজন। আইটি সার্ভিসের ফেসভ্যালু আছে। অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সমস্যা করলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেলবে। কাজ করলে উপকার করবে। আর যদি কাজ না তাহলে সমস্যা অনেক বেশি হবে। যাদের আইটি জ্ঞান আছে, এবং যাদের নেই; এটা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা যায়। চুড়ান্ত বিচারে খুব ক্ষতি করে। তাই বারবার পরীক্ষা করার ব্যাপার আছে।’
সুষ্ঠু গণতন্ত্রের জন্য কার্যকর গণমাধ্যম প্রয়োজন উল্লেখ করে সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘গণমাধ্যম যেন সঠিকভাবে খবর প্রচার করতে পারে। আমরা সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমের খবরের ওপর নির্ভর করব, তারা যাতে আমাদের বিশ্বাসযোগ্য খবর দেন এবং আমরা যাতে আস্থা রাখতে পারি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
এসময় তিনি নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সবার সম্মতিতে একটি নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ও আমন্ত্রিতরা উপস্থিত ছিলেন।