শেষ দিনে হেরে পারলেন না ফাহাদ, জাতীয় দাবায় চ্যাম্পিয়ন নিয়াজ

শেষ দিনে হেরে পারলেন না ফাহাদ, জাতীয় দাবায় চ্যাম্পিয়ন নিয়াজ

৬০ বছর বয়সে পা রেখেছেন গত মে মাসে। এই বয়সেও জাতীয় দাবার শিরোপা জিতে নিলেন নিয়াজ মোরশেদ। আজ ৪৯তম জাতীয় দাবার প্রতিযোগিতায় শেষ রাউন্ডে ফিদে মাস্টার সুব্রত বিশ্বাসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে তিনি দেখালেন, বয়স কোনো বাধা নয়।

শেষ দুই রাউন্ডে মাত্র আধা পয়েন্ট পেয়ে শিরোপা জিততে পারলেন না ফাহাদ রহমান। অথচ ১১ রাউন্ড পর্যন্ত তিনিই আধা পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন নিয়াজের চেয়ে। চতুর্থবারের মতো রানার্সআপ হয়ে তাঁকে খুশি থাকতে হয়েছে।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার ইয়ুথ টাওয়ারে আয়োজিত টুর্নামেন্টে সব উত্তেজনা জমা ছিল শেষ রাউন্ডের জন্য। ধারণা করা হচ্ছিল, আজ শেষ রাউন্ডেও নিয়াজ মোরশেদ ও ফাহাদ রহমানের মধ্যে শিরোপা নির্ধারিত হবে না। দুজনই শেষ রাউন্ডে জিতবেন এবং পয়েন্ট সমান সাড়ে ১০ হবে দুজনের। ফলে দুজন পরদিন প্লে–অফে মুখোমুখি হবেন।

তবে শেষ মুহূর্তে আবারও চাপের মুখে ভেঙে পড়লেন ফাহাদ। কক্সবাজারের রেটেড খেলোয়াড় মোহাম্মদ শাকের উল্লাহর কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে গেছেন এই আন্তর্জাতিক মাস্টার। অন্যদিকে রাউন্ডে সুব্রত বিশ্বাসকে হারাতে তেমন কষ্ট হয়নি নিয়াজের। তাঁর পয়েন্ট সাড়ে ১০, ফাহাদের সাড়ে ৯।

জাতীয় দাবায় এটি নিয়াজের সপ্তম শিরোপা। প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ১৯৭৯ সালে মাত্র ১২ বছর ১১ মাস বয়সে। সবচেয়ে কম বয়সে জাতীয় দাবায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড এখনো নিয়াজেরই। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হন ২০১৯ সালে। সবচেয়ে বেশি বয়সে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ডও তাঁর।

উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ ১৯৮১-৮২ পর্যন্ত টানা চারবার চ্যাম্পিয়ন ছিলেন জাতীয় দাবায়। এরপর ২০১২ ও ২০১৯ সালে শিরোপা জিতেছেন। নিজের সপ্তম শিরোপা জিতে উচ্ছ্বসিত নিয়াজ বলেন, ‘১৯৮৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত জাতীয় দাবায় খেলতে হয়নি আমাকে। তখন সরাসরি সুযোগ পেতাম জাতীয় দলে। ব্যক্তিগত ব্যস্ততা, ব্যবসার কারণে ৬ বছরসহ মোট ২০ বছর অনুপস্থিত ছিলাম জাতীয় দাবায়। এখন আশা করিনি প্রায় এই ৬০ বছর বয়সেও চ্যাম্পিয়ন হবে। ভাবছিলাম হয়তো ফাহাদের সঙ্গে প্লে-অফ খেলতে হবে, তবে সেটার প্রয়োজন পড়েনি।’

আবারও শেষ মুহূর্তের চাপ নিতে পারেননি ফাহাদ, যা তাঁর জন্য হতাশারই। জাতীয় দাবায় এখনো পাননি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ। চতুর্থবার রানার্সআপ হয়ে বললেন, ‘শেষ দিকের চাপ আমার খেলার ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণে চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। ভীষণভাবে হতাশ আমি।’

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin