সাংবাদিক বাদলের ওপর হামলার ঘটনায় কেজিইউজের নিন্দা

সাংবাদিক বাদলের ওপর হামলার ঘটনায় কেজিইউজের নিন্দা

রংপুরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদলের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেজিইউজে)। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রিগান ও সদস্যসচিব মনোয়ার হোসেন লিটন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রতিবাদ লিপিতে জানানো হয়,  ২১ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে মব সৃষ্টি করে রংপুরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় লিয়াকত আলী বাদলের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেজিইউজে) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে কেজিইউজে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

প্রতিবাদলিপিতে আরও জানানো হয়, একজন নিষ্ঠাবান ও প্রবীণ সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের আচরণ দেশের সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল। কেজিইউজে এ ঘটনার ইন্ধনদাতাসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।

একই সঙ্গে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রংপুরের সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদ ও দাবির সঙ্গে কেইজইউজে একাত্মতা প্রকাশ করছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন কেজিইউজে নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ২১ সেপ্টেম্বর রংপুরে সাংবাদিক বাদলকে হেনস্তা করে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামধারী কিছু তরুণ। সংবাদ প্রকাশের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

ঘটনার শিকার সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদল জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংবাদে ‘রংপুরে জুলাই যোদ্ধাদের নামে অটোরিকশার লাইসেন্স, ৫ কোটি টাকা বাণিজ্যের পাঁয়তারা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন করেন তিনি। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের কাচারিবাজার মোড়ে ছিলেন তিনি। তখন জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া এনায়েত রকি ফোন করে তার অবস্থান জেনে দলবল নিয়ে সেখানে যান। সেখানে মব তৈরি করে তাকে সিটি করপোরেশনে তুলে নিয়ে আসেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা সাবেক কাউন্সিলর লিটন পারভেজের প্রত্যক্ষ মদতে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চাপ দিয়ে বলা হয় সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়ে বলতে হবে, প্রকাশিত খবরটি ছিল মিথ্যা। এরপর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের দোতলায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষের সামনে বসিয়ে রেখে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে গিয়ে সাংবাদিক বাদলকে উদ্ধার করেন।

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin