গত বছর যখন বিশ্বখ্যাত রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল বাংলাদেশে এল তখন তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। বাংলাদেশের ইফাদ মোটরস এই রয়্যাল এনফিল্ড সংযোজন করে বাজারজাত করছে। তখন তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত বছর যেদিন প্রথম রয়্যাল এনফিল্ড আনার ঘোষণা দেওয়া হয়, সেদিন বাংলাদেশ থেকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে তথ্য খোঁজার তালিকায় এক নম্বরে ছিল।
তরুণ প্রজন্মের কাছে রয়্যাল এনফিল্ড নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ আছে। কিন্তু আপনি জানেন কি-রয়্যাল এনফিল্ডের যাত্রা শুরু হয় একটি সূচ কোম্পানি থেকে।
বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা গেছে, রয়্যাল এনফিল্ডের যাত্রা শুরু হয় ১৮৯১ সালে। ওই বছর জর্জ টাউনসেন্ড অ্যান্ড কোং নামের একটি পুরোনো সুচ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেনেন উদ্যোক্তা বব ওয়াকার স্মিথ ও অ্যালবার্ট এডি। কারখানাটি ছিল ইংল্যান্ডের রেডিচ শহরে। কিছুদিন পর তাঁরা সাইকেল তৈরি শুরু করেন। ১৩৩ বছর পরে বাংলাদেশে আসে রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল।
১৮৯৩ সালে রয়্যাল স্মল আর্মস ফ্যাক্টরির জন্য যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি পায় প্রতিষ্ঠানটি। তখনই নামকরণ হয় এনফিল্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। প্রথম সাইকেলের নাম রাখা হয় এনফিল্ড। পরের বছর ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রয়্যাল এনফিল্ড। তখনই তাদের বিখ্যাত স্লোগান ‘মেড লাইক আ গান’ সামনে আসে।
এরপর ১৯০১ সালে বাজারে আসে প্রথম রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল। এরপর ধীরে ধীরে ভি টুইন, টু স্ট্রোকসহ একের পর এক নতুন মডেল আসতে থাকে। ১৯৩২ সালে জন্ম নেয় রয়্যাল এনফিল্ডের কিংবদন্তি মডেল বুলেট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও বিশেষ খ্যাতি পায় রয়্যাল এনফিল্ডের ১২৫ সিসি ‘ফ্লাইং ফ্লি’ মডেলের মোটরসাইকেল। এরপর ১৯৫৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ মোটরসের সঙ্গে অংশীদার হয়ে চালু করা হয় এনফিল্ড ইন্ডিয়া। ষাট-সত্তরের দশকে ব্রিটেনে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও ভারতেই টিকে থাকে ব্র্যান্ডটি। যদিও যুক্তরাজ্যে রয়্যাল এনফিল্ডের উৎপাদন কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, তবে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। ২০২১ সালে ১২০ বছরের মাইলফলক পেরিয়ে রয়্যাল এনফিল্ড বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।
১৮৯১ সাল
ইংল্যান্ডে কোম্পানির যাত্রা শুরু ১৮৯১ সালে। শুরু হয়েছিল ৫০ বছরের পুরোনো সুচ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জর্জ টাউনসেন্ড অ্যান্ড কোং থেকে।
১৮৯৩ সাল
কোম্পানিটির নাম বদলে হয় এনফিল্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি। বাজারে প্রথম সাইকেলের নাম ছিল এনফিল্ড। ১৮৯৪ সালে মোটরসাইকেল রয়্যাল এনফিল্ড বাজারে আসে। রয়্যাল এনফিল্ডের স্লোগান ‘মেড লাইক আ গান’ ব্যাপক পরিচিতি পায়।
১৮৯৮ সাল
এনফিল্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের আনুষ্ঠানিক নাম হয় দ্য এনফিল্ড সাইকেল কোং লিমিটেড। এই নাম পরবর্তী ৭০ বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে।
১৯০১ সাল
বব ওয়াকার স্মিথ ও ফরাসি প্রকৌশলী জুল গবিয়েটের যৌথ নকশায় প্রথম রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল তৈরি করে।
১৯১৪ সাল
রয়্যাল এনফিল্ড প্রথম দুই স্ট্রোক মোটরসাইকেল উৎপাদন করে, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার হয়।
১৯২৪ সাল
নতুন ৮টি মডেল বাজারে আনে রয়্যাল এনফিল্ড।
১৯৩২ সাল
এ বছরে রয়্যাল এনফিল্ডের সবচেয়ে আলোচিত মোটরসাইকেল বুলেট বাজারে আসে। লন্ডনের অলিম্পিয়া মোটরসাইকেল শোতে এটি প্রথম প্রদর্শিত হয়।
১৯৩৩ সাল
সহপ্রতিষ্ঠাতা বব ওয়াকার স্মিথ মারা যান। তাঁর ছেলে মেজর ফ্র্যাঙ্ক স্মিথ পূর্ণ দায়িত্ব নেন।
১৯৩৯-১৯৪৫ সাল
রয়্যাল এনফিল্ড বিপুল পরিমাণে সেনা মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, জেনারেটর ও অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট যন্ত্র তৈরি করে।
১৯৪৯ সাল
ভারতীয় উদ্যোক্তা কে আর সুন্দরাম আয়ার ব্রিটিশ মোটরসাইকেল আমদানির জন্য মাদরাস মোটরস প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৫২ সাল
ভারতীয় সেনাবাহিনী ৫০০টি ৩৫০ সিসি বুলেট মোটরসাইকেলের ক্রয়াদেশ দেয়।
১৯৫৫ সাল
দ্য এনফিল্ড সাইকেল কোং লিমিটেড ও মাদ্রাজ মোটরস যৌথভাবে এনফিল্ড ইন্ডিয়া গঠন করে।
১৯৭৭ সাল
এনফিল্ড ইন্ডিয়া ৩৫০ সিসি বুলেট যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে রপ্তানি শুরু করে।
১৯৯৩ সাল
বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ডিজেল মোটরসাইকেল তৈরি করে এনফিল্ড ইন্ডিয়া।
১৯৯৪ সাল
ভারতের বহুজাতিক কোম্পানি আইশার এনফিল্ড ইন্ডিয়া অধিগ্রহণ করে। নাম বদলে রাখা হয় রয়্যাল এনফিল্ড মোটরস লিমিটেড।
২০০১ সাল
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডেয়ারডেভিলস দল ৩৫০ সিসি বুলেট মডেলের মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ২০১ জনের মানব পিরামিড বানিয়ে ২০০ মিটার চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে।
২০০৫ সাল
ভারতে রয়্যাল এনফিল্ডের ৫০ বছর পূর্তি হয়।
২০১৬ সাল
প্রথম অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল হিমালয়ান বাজারে আসে।
২০১৭ সাল
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এনফিল্ডের টেকনোলজি কেন্দ্র খোলা হয়। যেখানে রয়্যাল এনফিল্ডের নকশা ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা উন্নত করা হয়।
২০২১ সাল
রয়্যাল এনফিল্ড তাদের ১২০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করে।
২০২৪ সাল
অক্টোবরে বাংলাদেশের বাজারে রয়্যাল এনফিল্ড নিয়ে আসে ইফাদ মোটরস।