প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড নির্ধারণ শিগগিরই!

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড নির্ধারণ শিগগিরই!

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ হতে যাচ্ছে শিগগিরই। অর্থ বিভাগ ১১তম গ্রেডের সম্মতির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দ্রুত চিঠি দেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। অর্থবিভাগের সচিবের সঙ্গে শিক্ষক নেতা বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপির এ নিয়ে কথা হয়েছে।

জানতে চাইলে খায়রুন নাহার লিপি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অর্থসচিব আমার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে ফোন করেছিলেন। আমি শারীরিক অবস্থা জানানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলেছি। উনি উদারতা দেখিয়েছেন। আমি কম সময়ের মধ্যে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি। তিনি ১১তম গ্রেড নির্ধারণের বিষয়ে দ্রুত বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দশম গ্রেড বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে গত ৮ নভেম্বর রাজধানীর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ এবং সমাবেশে শিক্ষকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড হামলার ঘটনায় শিক্ষক নেতা খায়রুন নাহার লিপিসহ ১০৯ জন শিক্ষক অসুস্থ হন।

এছাড়া ওই সময় দশম গ্রেড বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক মু. মাহবুবুর রহমানসহ পাঁচজন শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় রবিবার (৯ নভেম্বর) শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষকরা। এর পরপরই আটক শিক্ষকদের ছেড়ে দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ।

আন্দোলনেরর তৃতীয় দিনে গত ১০ নভেম্বর বিকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ বিভাগের সচিবের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের পর আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষক নেতারা।

দশম গ্রেড বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের ১০ ও ১৬ বছরপূর্তীতে উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতার অবসান এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবি ছিল শিক্ষকদের। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির পাশপাশি পুলিশি হামলার ঘটনায় ৯ নভেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতিও শুরু করেছিলেন শিক্ষকরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার। ওই বৈঠকে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা যায়। এরপর গত ১০ নভেম্বর রাতে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগ জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ এ প্রেরণ করেছে। যা জাতীয় বেতন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।’ বিজ্ঞপ্তির এই অংশ নিয়ে আপত্তি তোলেন আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষকরা।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক নেতাদের পক্ষে ওইদিন (১০ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতির বিষয়ে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’ যদিও শেষ পর্যন্ত কর্মবিরতিও প্রত্যাহার করা হয়। 

শিক্ষকরা জানান, আন্দোলন প্রত্যাহার করার বিষয়টি সাধারণ শিক্ষকরা মানতে পারেননি। কিছু একটা নিয়ে ঘরে ফেরা উচিত ছিল শিক্ষক নেতাদের। কারণ শিক্ষকরা ভরসা হারিয়ে ফেলেন যে, সরকার কিছুই করবে না। তবে অর্থবিভাগের সচিবের সঙ্গে কথা বলার শিক্ষক নেতা বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে জানান, অর্থ সচিব উদরতা দেখিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। 

প্রসঙ্গত, দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে ৮ নভেম্বর সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। ওইদিন দুপুরে শহীদ মিনার থেকে শাহবাগে গিয়ে শিক্ষকরা কলম বিসর্জন কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও সাউন্ড গ্রেনেড হামলার শিকার হন। আহত হন ১০৯ জন শিক্ষক। পাঁচ জন শিক্ষককে পুলিশ আকট করে। পুলিশি নির্যাতন ও শিক্ষক আটকের ঘটনায় রবিবার (৯ নভেম্বর) সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। আর কাফনের কাপড় হাতে নিয়ে শিক্ষকরা শপথ নিয়েছিলেন দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম-শাহীন) সভাপতি প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাসেম, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি এবং দশম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয়ক মু. মাহবুবুর রহমানসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এবারের আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বদরুনন্নেসার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ BanglaTribune | শিক্ষা

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বদরুনন্নেসার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এবার উদ্বেগ জানিয়েছে...

Sep 23, 2025

More from this User

View all posts by admin