পাঁচ ঘণ্টা ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, পরে শাকসু নির্বাচনের তারিখ জানালেন উপাচার্য

পাঁচ ঘণ্টা ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, পরে শাকসু নির্বাচনের তারিখ জানালেন উপাচার্য

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচির পর উপাচার্যের আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন একদল শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল। সংবাদ সম্মেলন যে সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, ওই সময়েই অনিবার্যকারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এতে শাকসু নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ভবনে তালা ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচিতে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র মজলিশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

‘আজ শুক্রবার সন্ধ্যার পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে’—এই আশ্বাস দিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে গিয়ে উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী ৯ অথবা ১০ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন করবো।’ এ আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। প্রশাসনিক ভবনের তালাও খুলে দেন তারা।

এর আগে রাত সাড়ে ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে পৌনে দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে প্রায় রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন তারা। এর মধ্যে রাত ১১টার দিকে অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন ও প্রক্টর মোখলেছুর রহমান আশ্বাস দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত পৌনে ১টায় উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ও সহ-উপচার্য সাজেদুল করিম আসেন। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সিদ্ধান্ত জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাবিপ্রবির আহ্বায়ক পলাশ বখতিয়ার বলেন, ‘নির্বাচন দেবে বলে বলে তারিখ ঘোষণা করছে না প্রশাসন। বৃহস্পতিবার তারিখ ঘোষণার কথা ছিল। সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছে। আমরা বলছি এই কালক্ষেপণ শাকসু বানচালের ষড়যন্ত্র। আমরা ৮ তারিখের আগেই নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছিলাম। উপাচার্যের আশ্বাসে আমরা আপাতত প্রত্যাহার করছি; কিন্তু এরপরও যদি কালক্ষেপণ হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলন ডেকে স্থগিত করা হয় কেন? এর জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তির মিটিং ও আরেকজন চিকিৎসাকেন্দ্রে থাকায় আমরা ভেবেছি শুক্রবার করবো। এটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এখানে একটি আলোচনা এসেছে ৯ ডিসেম্বর বা ১০ ডিসেম্বর। যেকোনো একটি তারিখে নির্বাচন  হবে।’

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin