বলা হয়ে থাকে, কালিজিরা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিকরা যদি নিয়মিত অল্প করে খান তাহলে বেশ উপকারী। কিন্তু এমনও হতে পারে এটি অনেকের শরীরের জন্য ভালো না। বা মেথি, অশ্বগন্ধা, তেঁতুল বীজ, তুলসীপাতা ইত্যাদি ভেষজ অনেকেই ওষুধের মতো ব্যবহার করেন।
কিন্তু ভুলভাবে বা না জেনে খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। যেমন, কালিজিরা অতিরিক্ত খেলে বমি, মাথা ঘোরা, লিভারের সমস্যা হতে পারে। গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মায়েদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া ঠিক নয়। যদি আগে থেকেই ব্লাড প্রেশার বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাহলে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে এসব না খাওয়া ভালো। আবার, অতিরিক্ত মেথি খেলে গ্যাস, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা বা ফুলে যাওয়া হতে পারে। মেথি রক্ত পাতলা করে, তাই যারা ব্লাড থিনার ওষুধ খান বা রক্তক্ষরণজনিত রোগে ভোগেন, তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অশ্বগন্ধা ক্লান্তি কমায়, ঘুমের সমস্যা দূর করে কিন্তু এই অশ্বগন্ধা অন্য অনেকের শরীরের ক্ষতির কারণ হতে পারে। শরীরের অবস্থা না জেনে খেলে থাইরয়েড সমস্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। যার হাইপারথাইরয়েড রোগী তাদের জন্য এটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে অন্যে খায় বলে আপনাকেও সেটা খেতে হবে, বিষয়টি তেমনটা নয়।
ভেষজ ব্যবহারেও সতর্কতা প্রয়োজন
অনেক ভেষজে প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ওষুধের মতো শরীরে কাজ করে। ভুল মাত্রায় নিলে পেটের সমস্যা, রক্তচাপের তারতম্য, লিভারের ক্ষতি এমনকি অ্যালার্জিও হতে পারে। কিছু ভেষজ ডায়াবেটিস বা ব্লাড প্রেশারের ওষুধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। গর্ভবতী, স্তন্যদায়ী মা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য কিছু ভেষজ একেবারেই নিরাপদ নয়। সেক্ষেত্রে চেনাজানা কেউ খায় বলেই আপনি খাবেন না।
তাহলে কী করবেন
মাত্রা জেনে ব্যবহার করুন। চিকিৎসক/আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। খাওয়ার পরে শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন। শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।