আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের বিশেষ নির্দেশনায় নওগাঁয় পরিচালিত হলো ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত জেলার তিনটি উপজেলায় একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে দুটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। শতাধিক পুলিশ সদস্য রাতভর নওগাঁর পোরশা, নিয়ামতপুর ও সদর এলাকায় অভিযানে অংশ নেন। চোর-ডাকাত, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারিদের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের ধরতে বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি, সড়কপথে চেকপোস্ট স্থাপন এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়। এ সময় অভিযানে পোরশা থানায় ১৪, নিয়ামতপুর থানায় ৯ ও নওগাঁ সদর থানা এলাকায় ২ জনসহ মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে ৮ জন চিহ্নিত ডাকাত ও কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়।
পোরশা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, পোরশা এলাকায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব মামলার আসামি ছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে আমরা বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছি।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, রাতভর ও ভোরে একাধিক স্থানে অভিযান হয়েছে। বেশ কয়েকজন পলাতক আসামি ও মাদক ব্যবসায়ীকে ধরা গেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউল সারোয়ার বলেন, পোরশা-নিয়ামতপুর এলাকায় সাম্প্রতিক চুরি-ডাকাতির ঘটনা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুরো জেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। প্রয়োজন হলে আরও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।