দীর্ঘ ৩৫ বছর আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা করছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন ব্যতিক্রমধর্মী পোস্টার, লিফলেটের সঙ্গে দেখা মিলছে হরেক রকম প্রচারণাও। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও রাকসু ভবনে অবস্থিত সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো বিকল্প কার্যালয়ের পায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংবাদ নির্বাচনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বর্তমানে ভবনটিতে সমকাল নাট্যচক্র, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ড্রামা অ্যাসোসিয়েশন, উদীচী সাংস্কৃতিক সংসদ, অনুশীলন নাট্যদল, স্বনণ, তীর্থক নাটক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ (রুরু) কমপক্ষে ১৫টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠন প্রশাসনের অনুমতিক্রমে অস্থায়ীভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসির অভাবে এখন পর্যন্ত এই ভবনেই রয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছর ধরে রাকসু নির্বাচন নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এসেও সংগঠনগুলোর পুনর্বাসন হয়নি। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার আলোচনাও করেছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নসহ আপাতত অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনকে দাবিও জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনের আর তিন দিন বাকি থাকলেও রাকসু ভবনের কক্ষগুলোতে এখন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে শুধুমাত্র রাকসু ভবনের সামনের অর্ধেক দেয়ালে রঙ এবং নামকরণের বাইরে তেমন সংস্থারও করা হয়নি ভবনটিতে।
জানতে চাইলে রাবি রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি সোহাগ আলী বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন কমিটি হয়েছে, আমরা বসছি, সিদ্ধান্ত হয়েছে, ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আশা করি খুব শিগগিরই হয়ে যাবে। তবে সিদ্ধান্তটা যদি আরও আগে নেওয়া হতো, আমাদের জন্য সুবিধা হতো। আমাদের জিনিসপত্র স্থানান্তর কিংবা নতুন জায়গায় সেটআপ করার বিষয় রয়েছে। আশা করি, কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিম আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। রিসেন্টলি তারা রাকসু ভবনে এসে সরেজমিনে দেখেও গেছে। তবে এখনও কোনও সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন জানায়, এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেখার বিষয়। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। নির্বাচনের আগেই প্রতিটি সংগঠনকে পুনর্বাসন করা হবে।