জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণায় ভয়-ডর ও আতঙ্কহীন পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার কাজ করবে। এমনটি প্রত্যাশা করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের নেতারা। একইসঙ্গে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দলীয় সমর্থকদের সরিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান দলটির।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের একটি মিলনায়তনের জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সভার শুরুতে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কৌশল নির্ধারণ এবং সারা দেশে সাংগঠনিক কর্মসূচি বিস্তার নিয়ে সূচনা বক্তব্য রাখেন পার্টির মহাসচিব সাবেক এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
প্রস্তাবে বলা হয়, জাতীয় পার্টি প্রত্যাশা করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করে নির্বাচনি মাঠে প্রচারণায় সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। সরকার আন্তরিক হলে আগামীতে একটি ভোট উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হতে পারে।
সভায় বলা হয়, নির্বাচন কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করলে একটি সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য ভোট উৎসব উপহার দিতে পারবে। যেখানে ভয়-ডরহীনভাবে ভোটে অংশগ্রহণ করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে পারবে।
বৈঠকে জানানো হয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করতে চায়। তবে কোন প্রক্রিয়ায় বা কোন কৌশলে অংশ নেবে তা কিছু দিন পর জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। এর আগে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন– জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য, বেগম নাসরিন জাহান রতনা, মাসরুর মওলা, জসিম উদ্দিন ভূইয়া, আরিফুর রহমান খান, জিয়াউল হক মৃধা, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন, সরদার শাহজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মো. বেলাল হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক।