বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বিগত যেকোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে বেশি আলোচনায় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব দলের প্রস্তুতিও এবার খানিকটা ভিন্ন। একদিকে যেমন বড় দলগুলোর সঙ্গে জোট করার আলোচনা চলছে, পাশাপাশি একক নির্বাচনের দিকেও রয়েছে নজর। বিশেষ করে জুলাই সনদ কার্যকরের বাস্তবতা তৈরি হলে দুইকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের দিকে গভীর দৃষ্টি রয়েছে ইসলামি দলের নেতাদের।
বাংলা ট্রিবিউনের কাছে বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতাদের ভাষ্য, নিম্নকক্ষ, উচ্চকক্ষ বাস্তবায়ন হলে একক নির্বাচনের দিকে ঝুঁকবে দলগুলো। এ ক্ষেত্রে ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের পক্ষে ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা। তবে আসনভিত্তিক হারে উচ্চকক্ষ নির্ধারণ হলে জোটগত নির্বাচনের পথেই হাঁটবেন তারা। সবমিলিয়ে উভয় দিক বিবেচনায় রেখে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসলামি দলগুলো। ইতোমধ্যে ঘোষিত হয়েছে বেশকিছু আসনের প্রার্থীও। চলছে বাছাইয়ের কাজ।
বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রয়েছে ১৫টি ইসলামি দল। আর নিবন্ধনের বাইরে সক্রিয় আরও অন্তত পঁচিশটি দল। কিছু দল একই নামে ব্র্যাকেটবন্দি। বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে তাদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে এককভাবে ভোটের রাজনীতিতে এসব দলের তেমন সাফল্য নেই।
এককভাবে গত তিন দশকে সারা দেশের মাত্র দুটি আসন থেকে জয় পেয়েছেন ইসলামি দলের প্রার্থী। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা উবায়দুল হক ওজিরপুরী বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে বরগুনা-২ আসন থেকে জয় পান গোলাম সরোয়ার হিরু।
ইসলামি দলগুলোর নেতারা জানান, ২০০১ সালে কওমি ঘরানার চারটি দল মিলে ইসলামী ঐক্যজোট গঠন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের ব্যানারে নির্বাচন করে তিনটি আসন লাভ করে। কমপক্ষে ১০টি আসনে দলগুলোর দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়ার রেকর্ডও রয়েছে; যা জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর। জনপ্রিয় প্রার্থী দিতে পারলে এসব আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইও হতে পারে।
৫ আগস্টের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এবার একক নির্বাচন করলে ইসলামি দলগুলো কতটি আসনে জয় পেতে পারে? এ নিয়ে এক ধরনের হিসাব-নিকাশ চলছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে নির্বাচনে ধর্মীয় দলগুলোর জন্য বাড়তি সুবিধা হবে কিনা এ নিয়েও বিশ্লেষণ করছেন কেউ কেউ।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রাব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ভোটারদের মনোভাব বুঝা কঠিন। অনেক সময় প্রার্থী বা দলের জোয়ার দেখে তারা সিদ্ধান্ত নেন। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ ভোটের দিন সকালেও পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারেন। তবে দেশের ইসলামিদলগুলোর অতীতের সাফল্য কী সেটার বাইরে দেখতে হবে এবার তাদের পক্ষে জনমত কী?’
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে মাদ্রাসা ছাত্র ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণ থাকায় তাদের হয়তো কিছুটা এগিয়ে রাখতে পারে। আবার জামায়াতসহ সব ইসলামি দল এক জোট হলে আরও ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এবার এক ধরনের জোয়ার আছে ইসলামি দলগুলোর ব্যাপারে। তবে জামায়াত ছাড়াও অন্য ইসলামি দলগুলো বড় দল বিএনপির দিকে ঝুঁকলেও তাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।’
কারণ হিসেবে মুফতি গোলাম রাব্বানী উল্লেখ করেন, ‘অনেক ইসলামি দলের নেতাকর্মীরা মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও আছে। তাই অনেক সময় হয়তো ভোটাররা তাদের কথায়ও আকৃষ্ট হতে পারেন।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন মনে করেন, সারা দেশে অন্তত শতাধিক আসনে ইসলামি দলের প্রার্থীরা কন্টেস্ট করতে পারবেন। তবে সব আসনেই ইসলামি দলের প্রার্থীরা থাকবেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনও জোট বা একক নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি।
মজলিসের সূত্র জানায়, অন্তত ১৬টি আসনে দলটির প্রার্থিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম। প্রার্থিতায় অংশ নেবেন শতাধিক।
নিবন্ধিত ইসলামি দল
জামায়াতের বাইরে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ইসলামি দল রয়েছে ১৫টি। এর মধ্যে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা), মাওলানা মামুনুল হক-মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা), মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ-অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদেরের খেলাফত মজলিস (দেওয়াল ঘড়ি), মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক-মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ), মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি-ইউসুফ সাদেকের বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ), সারওয়ার কামাল আজিজী-মুসা বিন ইজহারের নেজামে ইসলাম পার্টি (বই), মাওলানা আবদুল কাদির-মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজির ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার), মোস্তফা আমির ফয়সাল-শামীম হায়দারের জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল), সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী ও আবুল বাশার মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জুবাইরের ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার), এমএ মতিন স উ ম আব্দুস সামাদের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি), সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদের বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা), নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী-সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা), ব্যারিস্টার নাসিম খান-রেজওয়ান মর্তুজার বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল (হাত পাঞ্জা), অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ-কাজী আবুল খায়েরের বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) এবং ইমাম হায়াত ও শেখ রায়হান রাহবারের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের (আপেল)।
সক্রিয় অনিবন্ধিত দল
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ-আবদুর রহিম কাসেমীর বাংলাদেশ জমিয়তে উলামা, মাওলানা আবু জাফর কাসেমী-মুফতি ফখরুল ইসলামের বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, মাওলানা মিজবাহুর রহমান চৌধুরীর ইসলামী ঐক্যজোট, ফয়জুল হক জালালাবাদীর খেলাফতে রাব্বানী পার্টি ও মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি।
ইসলামি হলেও এসব দলগুলোতে আবার মতাদর্শ ও আক্বিদাগত পার্থক্য রয়েছে। এর একটি বড় অংশ কওমি ঘরানার, কিছু সুন্নি মতাদর্শের, কিছু সুফীবাদ ও কিছু দল মধ্যমপন্থা নীতিতে বিশ্বাসী। অনিবন্ধিত এসব দলের অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিংবা জোটের হয়ে নির্বাচনের মাঠে নামবেন।
কওমি ঘরানার দলগুলোর প্রার্থী ঘোষণা ও বাছাই, অতীত রেকর্ড
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজেদের আঙ্গিকে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামি দলগুলো। এ ক্ষেত্রে তিনটি লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন নেতারা। এর মধ্যে সমমনা দলগুলো নিয়ে জোট গঠন, বৃহত্তর কোনও দলের জোটে অংশগ্রহণ অথবা এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। ইতোমধ্যে কিছু দল সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ ৩শ’ আসনেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। অচিরেই তারা পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ২৫৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। বাকি আসনগুলোতেও প্রার্থী বাছাই চলমান।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা দুই ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এর মধ্যে সমমনা ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হলে তাদের কিছু আসন ছাড় দেওয়া হবে। না হলে এককভাবে ৩শ’ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হবে।’
তিনি জানান, তার দলের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। তবে দলের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের হবিগঞ্জ-(চুনারুঘাট ও মাধবপুর) বা ঢাকার একটি আসনে নির্বাচন করতে পারেন। আর তিনি নিজে ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) আসনে নির্বাচন করবেন।
অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কোনও নির্বাচনেই তার দল এ আসনে নির্বাচন করেনি। তবে ১৯৯৬ সালে সমমনা দল ইসলামি ঐক্যজোটের মো. ওয়ালিউল ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৭৯৬ ভোট।
দলের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের সর্বশেষ ২০১৮ সালে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর ও চুনারুঘাট) আসন থেকে বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তারও আগে ১৯৯৬ সালে ইসলামী ঐক্যজোট থেকে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪ হাজার ৬৩৯ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। এর বাইরে সারা দেশের আসনগুলোতে এককভাবে উল্লেখযোগ্য ভোট নেই দলটির।
তবে নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী মনে করেন, এবার ইসলামি দলগুলোর পক্ষে গণজোয়ার আছে। সেই হিসেবে তারা ভালো করবেন বলে আশাবাদী।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রিকশা প্রতীকে নির্বাচন করার লক্ষ্যে তার দল থেকে ইতোমধ্যে ২৬৮টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে দলের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক ঢাকা-৭ (বংশাল, লালবাগ-হাজারীবাগ) এবং ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসন থেকে প্রার্থী হবেন।
মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ শরীয়তপুর-১ (সদর-জাজির), নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ), অভিভাবক পরিষদের সিনিয়র সদস্য মাওলানা মাওলানা আকরাম হোসেন ফরিদপুর- (নগরকান্দা-সালথা), যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব, কুলিয়ারচর) এবং ঢাকা-৮ (পল্টন, মতিঝিল) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ।
অতীতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের এসব আসনেও কওমি ঘরানার তেমন ভোট নেই। মামুনুল হকের ঢাকা-৭ আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মাত্র ১ হাজার ৩১৯ ভোট পান লুৎফর রহমান। আর ঢাকা-১৩ আসনে অতীতে দলটির তেমন সাফল্য নেই। অবশ্য মোহাম্মদপুর এলাকায় মামুনুল হকের প্রতিষ্ঠান থাকায় এবার নতুন সমীকরণের আশা করছেন নেতারা। মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ এর শরীয়তপুর-৩ আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল হক পেয়েছিলেন ২ হাজার ৯২৭ ভোট।
মজলিসের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসন থেকে উপনির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালেও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে ৫৬ হাজার ৭৬৫ ভোট পান। যদিও তখন তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে ছিলেন। এ আসনটিতে তার মোটামুটি অবস্থান রয়েছে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw690d6fbe4b37c" ) );
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার দল এখন পর্যন্ত কোনও জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। ৩০০ আসনেই দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তবে বৃহত্তর স্বার্থে অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট করেও নির্বাচন করতে পারে। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ইসলামি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চায় তারা। তাদের অভিপ্রায়কে প্রাধান্য দিয়েই নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ করবে দলটি।
মামুনুল হক বলেন, ‘অতীতের ভোটের পরিসংখ্যানের বাইরেও এবার ইসলামপন্থিরা ভালো করবে বলে আমি আশাবাদী। কারণ, চব্বিশের আন্দোলন ও তার পূর্ববর্তী ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছিল ইসলামি সংগঠনগুলো। তাই স্বাভাবিকভাবে মজলুম হিসেবে ইসলামি শক্তিগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে। এটা একটা বড় কারণ। তাছাড়াও দেশের মানুষ বিকল্প কিছু খুঁজছে বলে আমি মনে করি। সে হিসেবে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ ইসলামকে দেখতে চাইতে পারে। সে দিক থেকে আমরা আশাবাদী এবার ইসলামপন্থি দলগুলো এবার ভালো করবে।’
কওমিভিত্তিক আরেকটি দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড মোটামুটি উল্লেখযোগ্য। ইতোমধ্যে তারা দেড়শ’ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
এর মধ্যে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসন থেকে ১৯৯১ সালে এককভাবে জয়ী হন বায়তুল মোকাররমের তৎকালীন খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক। পরবর্তী সময়ে ৯৬ ও ২০০৮ এ সালে তৃতীয় হন দলটির প্রার্থী। অবশ্য সেখানে জামায়াত ও হুসাম উদ্দিন ফুলতলী হুজুরের উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। এবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে খেজুরগাছ প্রতীকে প্রার্থী হচ্ছেন দলের আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক। সেখানে কওমি মাদ্রাসার ভোট ব্যাংক নিজের পক্ষে আনতে পারলে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। পার্শ্ববর্তী সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনেও দলটির কিছুটা ভোটব্যাংক রয়েছে।
এর বাইরে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে জোটগতভাবে ২০০১ সালে নির্বাচিত হন দলটির প্রয়াত নেতা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। ২০০৮ ও ৯৬ সালেও সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন তিনি।
অপরদিকে, দলের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রার্থী হচ্ছেন নীলফামারী-১ (ডিমলা-ডোমার) আসন থেকে। সেখানেও দলটির উল্লেখযোগ্য ভোট নেই।
দলের নায়েবে আমির মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব প্রার্থী হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ) আসন থেকে। ২০০১ সালে সেখান থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন মহাসচিব মুফতি ফজলুল হক আমিনী। ২০০৮ সালেও ৯৪ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। তারও আগে ১৯৯৬ সালে সম্মিলিত পরিষদ থেকে ১২ হাজার ৫৬৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। সেখানেও কওমি মাদ্রাসা অধ্যুষিত হওয়ায় এ ঘরানার বিকল্প প্রার্থী না থাকলে জুনায়েদ আল হাবীবের ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করার মতো আসন নেই দলটির।
চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ৩০০ আসনেই দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি রয়েছে তার দলের। তবে বৃহত্তর ইসলামী জোট হলে কিছু আসনে অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতাও হতে পারে। এর মধ্যে দলের আমির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। আর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে। সর্বশেষ, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ২৭ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন তিনি। যেখানে বিজয়ী বিএনপির মজিবুর রহমান সারওয়ার পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার ৬৯৪ ভোট। আর ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও উল্লেখযোগ্য ভোট পান মুফতি ফয়জুল করীম।
দলের আমিরের আরেক ছোট ভাই মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেখানে সর্বশেষ ২০০৮ সালে দলের হয়ে সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী ১৮ হাজার ৪৫৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।
বরিশালে দলটির আঁতুড়ঘর হলেও জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে এ দুটি আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট আছে। এর বাইরে এ বিভাগের পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা), পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি), পটুয়াখালী-২ (বাউফল), বরগুনা-২ (সদর) আসনে দলটির কিছু ভোট রয়েছে।
এবার ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী। ২০০৮ সালে এ আসন থেকে দলের প্রার্থী আবদুর রশিদ ফেরদৌস পান ৬ হাজার ৬০০ ভোট; যেখানে বিজয়ী আওয়ামী লীগের সানজিদা খানম পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৮২৮ ভোট।
দলের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ নির্বাচন করবেন খুলনা-৪ (দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা) আসন থেকে। তবে ২০০৮ সালে মাত্র ৮ হাজার ৮৮৭ ভোট পেয়ে তিনি তৃতীয় হন। যেখানে বিজয়ী আওয়ামী লীগের মোল্লা জালাল উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২১৬ ভোট।
যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান নির্বাচন করবেন গাজীপুর-৫ (সদরের একাংশ ও কালীগঞ্জ) আসন থেকে। এ আসনে অতীতে সংসদ নির্বাচনে ভালো ভোটের রেকর্ড নেই দলটির। তবে ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে ৪৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় হন তিনি।
ভোটের পরিসংখ্যানে সারা দেশের মধ্যে রংপুর বিভাগের রংপুর সদরে কিছু ভোট আছে দলটির। যেখানে ২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল ৪৯ হাজার ৮৯২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। এর বাইরে কুড়িগ্রাম ১ ও ২ আসনে তৃতীয় হওয়ার রেকর্ড আছে। আর ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জের একটি ও খুলনা বিভাগের বাগেরহাটের একটি আসনে উল্লেখ করার মতো ভোট রয়েছে দলটির।
ইসলামী ঐক্যজোটের মূল অংশের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল কাদির ও মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি। কওমিভিত্তিক এ সংগঠনটি এক সময় বেশ শক্তিশালী ছিল। বর্তমানে এটি তিনভাগে বিভক্ত। তবে নিবন্ধনভুক্ত এ অংশটির সারা দেশে কিছু ভোট রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে এককভাবে বরগুনা- (বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা) আসন থেকে নির্বাচিত হন গোলাম সরোয়ার হিরু। এর বাইরে নারায়ণগঞ্জের একটিসহ দু-একটি আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। এবার কয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তা জানা যায়নি।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার দল নতুন নিবন্ধন পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে ১০০টি আসনে বই প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রাথমিক প্রস্তুতি রয়েছে। দলীয় প্রধান সারওয়ার কামাল আজিজী নির্বাচন করবেন না। তবে তিনি চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনে কতটি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এমন প্রশ্নে এ নেতা বলেন, ‘ঠিক কতটি আসনে জয়ী হবেন তা বলা কঠিন। তবে অতীতের চেয়ে আমরা এবার ভালো করবো।’
অনিবন্ধিত দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার দল ইতোমধ্যে ১০০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলের আমির মাওলানা আবু জাফর কাসেমী ভোলা-২ (দৌলতপুর-বোরহানউদ্দিন) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর তিনি নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে নির্বাচন করবেন মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম। যদিও এই দুটি আসনসহ অন্য আসনে দলটির তেমন ভোট নেই। তারপরও বিগত দিনের জেল ও নির্যাতনের কারণে এবার তারা ভালো করবেন বলে আশাবাদী দলের মহাসচিব।
আরও যারা সক্রিয় হচ্ছে নির্বাচনে
সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল নেতৃত্বাধীন ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টিও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুর-১ এ আসনে নির্বাচন করেন এম এ আউয়াল। বিগত ২০১৮, ২০২৪ এর নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। তবে এ বছরে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।
দলটির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল জানান, তিনি লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই আসন থেকে ১২ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের প্রার্থিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে শাহাদাত হোসেন বিএনপির সমর্থন পাচ্ছেন বলে ইতোমধ্যে দলীয়সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে শেষ মুহূর্তে সমীকরণে অনেক কিছু নতুন উঠে আসতে পারে বলে উল্লেখ করেন দুই নেতা।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি সমীকরণে অনেক কিছু পরিবর্তন ঘটে। আমি নিজে ও আমার দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। বিশেষভাবে আমরা নির্বাচনের আগে প্রগতিশীল যে জোট হচ্ছে, সেগুলোতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ইসলামি দলসহ অন্যান্য দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।’
সুন্নী আকিদাহ ও সুফিবাদী মতবাদে বিশ্বাসী নিবন্ধিত তিনটি দল ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) নিয়ে নির্বাচনি জোট গঠন হচ্ছে।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আগামী নির্বাচনে এ তিন দলের সমন্বয়ে বৃহত্তর সুন্নী জোট নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। এতে যুক্ত থাকবে অরাজনৈতিক সংগঠন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ ও সারা দেশের ১২ হাজার দরবার শরিফের অনুসারীরা। তবে তিন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
দলের এই নেতা, জানান তিনি নিজে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এটা নিশ্চিত। এর মধ্যে চাঁদপুর-৫ আসনটি তার নিজের দরবার কেন্দ্রিক হলেও সেখানে ২০০১ সালে নির্বাচন করে দলের প্রার্থী সৈয়দ জাহান শাহ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৪০৪ ভোট। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের প্রার্থী ইকবাল সোবহান পেয়েছেন ৯৬৯ ভোট।
সম্ভাব্য এ জোটের আরেকটি দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন চট্টগ্রাম-৯ (সিটি করপোরেশনের একাংশ) থেকে। ২০০১ সালে সেখান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ১ হাজার ২৩০ ভোট পান। তবে চট্টগ্রাম ১০ ও ১১ আসনে দলটির উল্লেখ করার মতো কিছু ভোট রয়েছে। এর বাইরে সারা দেশে তেমন অবস্থান নেই।
আরেক দল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি বিগত সরকারের সময় নিবন্ধন পেয়েছে। দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কোনও নির্বাচনে এখনও অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এর চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী। এ জোটের সম্ভাব্য প্রধান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বলেন, ‘বিগত সরকারের অধীনে নির্বাচনগুলো বিতর্কিত হওয়ায় নিজেদের যাচাই করার সুযোগ হয়নি। এবার আশা করি ব্যতিক্রম কিছু ঘটতে পারে।’
ফরিদপুরের আটরশি দরবারভিত্তিক দল জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির ফয়সাল ও মহাসচিব শামীম হায়দার। এ দলটির সারা দেশে ভক্ত ও মুরিদান থাকার সুবাদে কিছু ভোট আছে। তবে দুটি আসনে তাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ২০০৮ সালে ফরিদপুর-৪ (ভাঙা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসন থেকে গোলাপ ফুল প্রতীকে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭০ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন দলের চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির ফয়সাল। যেখানে বিজয়ী আওয়ামী লীগের নিলুফার জাফর উল্লাহ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯১ ভোট। আর শেরপুর সদর (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনেও দলটির উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। এবারও তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়াও নিবন্ধনভুক্ত হাফেজ্জী হুজুরের দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, মুসলিম লীগ-বিএমএল, মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ ইনসানিয়াত বিপ্লবও এবং অনিবন্ধিত কয়েকটি ইসলামী দলও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এসব দলের ভোটের পরিসংখ্যান উল্লেখযোগ্য।