বেলা আড়াইটা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বর। দূর থেকে ভেসে আসছিল ঢোলের আওয়াজ আর ‘রাজকীয় ভঙ্গির’ এক স্বর। কাছে গিয়ে দেখা গেল, মাথায় মুকুট ও নবাবি পোশাক পরে শিক্ষার্থীদের কাছে লিফলেট বিতরণ করছেন একজন। সেই সঙ্গে আরেকজন ঢোল বাজাচ্ছিলেন।
কথা বলে জানা গেল, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের একজন প্রার্থী। তাঁর নাম আবদুল্লাহ আল কাফী। ছাত্রদল–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের হয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাজে প্রচারে নেমেছেন তিনি। আজ সোমবার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় তিনি প্রচার চালিয়েছেন।
পরিবহন মার্কেটে কথায় কথায় আবদুল্লাহ আল কাফী বলেন, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করতে কিন্তু নানা ষড়যন্ত্রের কারণে পলাশীর যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন। এরপর ব্রিটিশদের দ্বারা আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন-জুলুমের ইতিহাস সবারই জানা। আমি শুধু নির্বাচনী প্রচারণার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আসছি এমন নয়; বরং প্রতিবাদের জায়গা থেকে এসেছি।’
আবদুল্লাহ আল কাফী বলেন, ‘সংস্কৃতি শুধুই প্রমোদের জন্য নয়। সমাজের দর্পণ হলো সংস্কৃতি। আমাদের সংস্কৃতির ওপর কেউ কেউ একধরনের আধিপত্য করার চেষ্টা করছে। সেই জায়গা থেকে আমি চেষ্টা করছি সমাজের অসংগতি তুলে ধরে এবং ভবিষ্যতে আমাদের সংস্কৃতিতে কী হতে যাচ্ছে, তা আমাদের ভোটারদের কাছে সচেতন করতে আসছি।’
আবদুল্লাহ আল কাফী আরও বলেন, বর্তমানে সংস্কৃতির ওপর আবারও কোনো লর্ড ক্লাইভের আক্রমণ নেমে এসেছে। সেই প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেই ভোটারদের কাছে এসেছেন। যেন পলাশীর যুদ্ধে নবাব হেরে গেলেও এ নির্বাচনে তাঁকে যেন তাঁরা হারতে না দেন। নির্বাচিত হতে পারলে তিনি ক্যাম্পাসে মুক্ত ও প্রগতিশীল সংস্কৃতির চর্চা আবারও জোরদার করতে চান।