প্রতি বছরের মতো এবারও মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারা নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনে বিকালে সদর উপজেলার শেরপুরের হামরকোনা গ্রামবাসীর আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।
শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে যায়। অপরদিকে প্রতি বছরের মতো এবারও নৌকাবাইচের আয়োজন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
ভাদ্র মাসের পড়ন্ত বিকালে বিশাল নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা। সবাই অপেক্ষায় কখন শুরু হবে নৌকাবাইচ। বছরের এই একটি দিনকে ঘিরে উৎসব আনন্দ আর টানটান উত্তেজনায় কাটে সন্ধ্যা অবধি। কার নৌকা জয় হলো আর কে পরাজিত হলো। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ঢোল ও তবলার তাল, আর বৈঠার স্পন্দনের মুহুর্মুহু তরঙ্গ দর্শকের মনে আনন্দের ঢেউ তোলে, শুরু হয় নৌকা বাইচ।
কুশিয়ারা তীরের দুই পাড়ের মানুষের মেলবন্ধনে সাক্ষী হতে এসেছেন নানা বয়সের নারী-পুরুষ। কেউ সন্তানকে নিয়ে, কেউ পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে। জেলা শহর থেকে শুরু করে কেউ এসেছেন সিলেট ,কেউ পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ আজমীরি থেকে।
শেরপুরের হামরকোনা গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩টি নৌকা অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী নৌকার মধ্যে ৪টি নৌকাকে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার ফাইনাল রাউন্ড শেষে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। কর্নেল আহমদের সভাপতিত্বে ও মুদরত আহমদ ও সাজন আহমদের যৌথ সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরনী অনুষ্টিত হয়।
আয়োজকরা জানান, তারা চেষটা করে যাচ্ছেন প্রতিবছর এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। তবে পৃষ্টপোষকাত পেলে আরও বড় পরিসরে তারা এই নৌকা বাইচের আয়োজন করতে চান। এদিকে নৌকা বাইচে প্রথম পুরষ্কার (মটর সাইকেল) অর্জন করে নবীগঞ্জের বাগাউড়ার মহরমের তরী এবং নবীগঞ্জের গুতগাও এর তরী ২য় পুরস্কার (ফ্রিজ) অর্জন করে। তাছাড়া তৃতীয় হয়েছে কানাইশাহ’র তরী ও চতুর্থ ইব্রাহিম শাহ’র তরী।