কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় মুখোশ পরে রেফাজুল ইসলাম নামে এক কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আরও একজন আহত হন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা নতুনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ তালুকদার।
নিহত রেফাজুল ইসলাম (৫০) রায়টা নতুনপাড়ার জামাত মণ্ডলের ছেলে এবং আহত লালন মণ্ডল (৪৫) একই এলাকার কালু মাঝির ছেলে। রেফাজুল কৃষক। আহত লালনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়টা পাথরঘাট এলাকায় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন রেফাজুল ও লালন। এ সময় তিন ব্যক্তি তাদের কাছে আসে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্রধারীরা খুব কাছ থেকে তাদের গুলি ছোড়ে। এতে রেফাজুল বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। লালনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের তিন জনই মুখোশ পরা ছিল। তাদের হাতে কালো গ্লাভসও পরা ছিল। দুজনের হাতে পিস্তল ও একজনের হাতে শটগান ছিল। শটগানের গুলিতে রেফাজুল নিহত হন। কেন কী কারণে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।’
ভেড়ামারা থানার ওসি আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘আধিপত্যের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বেশকিছু দিন ধরে এলাকায় জায়গা জমি ও বালু মহলের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হত্যাকাণ্ডের মতো একাধিক ঘটনা ঘটে চলেছে। যারাই এ ঘটনায় জড়িত শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে।’