আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করলে আরেকটি অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে পড়বে। সবাই একমত হলেও সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অহেতুক সাংবিধানিক বিতর্ক করছে একটি পক্ষ। এতে বার বার জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলো সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের মাঝে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মঞ্জু সবাইকে সতর্ক করে বলেন, আরেকটি অভ্যুত্থান হলে গণরোষ থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য জটিলতা সৃষ্টিকারীদের রক্ষায় অনেকগুলো বড় হেলিকপ্টার লাগতে পারে।
তিনি বলেন, সনদ মোটামুটি চূড়ান্ত হওয়ার পর এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা অনেকে অধিকমাত্রায় আইন ও সাংবিধানিক বিতর্কের অবতারণা করছি। অথচ শেখ হাসিনা সংবিধানের দোহাই দিয়ে চরমভাবে সংবিধানকে ভূলুণ্ঠিত করে ফ্যাসিবাদি দুঃশাসন চালিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বাধ্য হয়েই গণঅভ্যুত্থান করতে হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান হলো জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত প্রকাশ।
এবি পার্টির পক্ষ থেকে সব পক্ষের মতামত সন্নিবেশিত করে জুলাই সনদ সংবিধান আদেশের মাধ্যমে জারি করা, ১০৬ অনুচ্ছেদের আলোকে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ এবং সর্বোপরি জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের জন্য গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে এর একটি সফল সমাধানে পৌঁছানোর প্রস্তাব দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান।
এর আগে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক কমিশনে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার যুক্তিতে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পরবর্তী সংসদের ওপর ন্যাস্ত করার প্রস্তাবটি অন্যায্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। কারণ বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে সরকারকে উৎখাতের কোনও ধারণা নেই। অথচ জুলাই অভ্যুত্থানকে গোটা জাতি এক গৌরবজনক অর্জন বলে মনে করছে। কারণ জুলাই অভ্যুত্থান কোনও সাংবিধানিক বিধান মেনে সংঘটিত হয়নি। ফলে সংবিধানের ধারাবাহিকতার যুক্তিটি দুর্বল, অগ্রহণযোগ্য এবং এটি রাষ্ট্রের প্রত্যাশিত কাঠামোগত পরিবর্তন সাধনকে বিলম্বিত করবে।