‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা, রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার আমলেই নেয়নি কমিশন’

‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা, রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার আমলেই নেয়নি কমিশন’

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকারকে আমলেই নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব এবং সুপারিশ একপেশে ও জবরদস্তিমুলকভাবে জাতির উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, দীর্ঘ প্রায় ১ বছরব্যাপী সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলসমুহের দীর্ঘ ধারাবাহিক আলোচনা ছিল অর্থহীন, অর্থও সময়ের অপচয়, প্রহসনমূলক এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণা।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দলের এই অবস্থান তুলে ধরেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুইদিন স্থায়ী কমিটির বৈঠকশেষে সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংষ্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫”শীর্ষক প্রস্তাবনা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত থাকবে এটাই স্বাভাবিক এবং সে কারণে সংলাপের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ঐকমত্য কমিশন ভিন্নমত পোষণে রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকারকে আমলেই নেয়নি।”

‘সংস্কার বিএনপির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা’

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর আগেই ২০২৩ সালে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে জাতির সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করে। তার আগে ২০২২ সালে ২৭ দফা এবং ২০১৭ সালে ভিশন-২০৩০ প্রকাশ করা হয়। অতএব, বিএনপি এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট  সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ব্যক্তি ও শক্তিসমূহ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সার্বিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আসছে।  সুতরাং, রাষ্ট্র কাঠামোর প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংস্কার বিএনপির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা।”

তিনি বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলসমূহের প্রথম বৈঠকে  প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, যে সমস্ত বিষয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সেই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে একটি জাতীয় সনদ প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হবে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সেই সনদের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে। তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিভিন্ন ভাষণেও তার এই বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে পুনঃব্যক্ত করেছেন। জুলাই ঘোষণাপত্রেও এই বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে।

‘১৭ অক্টোবর জাতীয় সনদের চূড়ান্ত কপি উপস্থাপন করা হয়নি’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ ধারাবাহিক আলোচনায় কিছু কিছু বিষয়ে কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত/নোট অব ডিসেন্ট সহকারে ঐকমত্য হয়েছে। জুলাই  জাতীয় সনদ ২০২৫ যে ভাবে প্রণীত হয়েছে তাতে নোট অব ডিসেন্ট এর অংশে এই বক্তব্য স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, ভিন্নমত/নোট অব ডিসেন্ট প্রদানকারী কোনও রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে, তাহলে তারা সেমতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।”

“এখানে উল্লেখ্য যে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সকল অনুষ্ঠান বিটিভিসহ অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হয়েছে, যা সমস্ত জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।  অতঃপর গত ১৭ই অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা কেবল মাত্র আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত সনদ এর অঙ্গীকারনামায় সাক্ষর করেছি। কিন্ত উক্ত দিনে জুলাই জাতীয় সনদ এর চূড়ান্ত কপি আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি”, বলেন বিএনপি মহাসচিব।

‘ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মত কয়েকটি দফা অগোচরে পুনরায় সংশোধন’

মির্জা ফখরুল বলেন, “ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মত কয়েকটি দফা আমাদের অগোচরে পুনরায় সংশোধন করা হয়েছে। এগুলো হলো- শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি অফিসে টানানো সংক্রান্ত বিধান [অনুচ্ছেদ ৪ (ক)] বিলুপ্ত করার বিষয়টি সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও প্রায় সব রাজনৈতিক দল সম্মতি পত্র দিয়েছে। এছাড়া,  সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদ (পঞ্চম , ষষ্ঠ , সপ্তম তফসিল)  পুরোপুরি বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রায় সব রাজনৈতিক দল সম্মতি প্রকাশ করলেও অগোচরে সেটা চূড়ান্ত সনদে সংশোধনী আনা হয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ ২৮ অক্টোবর সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রেরিত চিঠিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি হিসেবে মাননীয় প্রধান  উপদেষ্টাও একজন দস্তখাতকারী বটে।”

তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন এবং সরকার একই অংগ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। উক্ত পত্রে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এ সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে দুইটি বিকল্প পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের এবং আইনগত ভিত্তি প্রদানের জন্য সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে।”

চিঠিতে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সরকার “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫” শিরোনামে একটি আদেশ জারী করবে। এরুপ প্রস্তাবিত আদেশের একটি খসড়া সংযুক্তি-২ এবং সংযুক্তি-৩ এ সংযোজিত করা হয়েছে।’

বিএনপি মনে করে, সরকারের এরকম আদেশ জারি করার এখতিয়ার নেই। সংবিধানের ১৫২ নং অনুচ্ছেদের সংজ্ঞা অনুসারে “আদেশ” আইনের মর্যাদাপ্রাপ্ত, অতএব সেটি জাবি করা রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।

মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিকল্প প্রস্তাব ১ এ সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি পুর্ণাঙ্গ খসড়া বিল গণভোটে উপস্থাপন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিলের তফসিল-১ এ সংস্কার প্রস্তাবসমূহ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিল সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংবিধান সংশ্লিষ্ট তফসীল-১ এ বর্ণীত ৪৮ টি দফার (জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত দফাগুলো) ওপর গণভোট হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পাশাপাশি একইসঙ্গে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে; এবং তারা আলাদাভাবে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। প্রশ্ন হলো, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত; সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়।”

তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত ছিল না, আলোচনার জন্য উপস্থাপিত হয়নি, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে  কোনও ঐকমত্য হওয়ার অবকাশও ছিল না।  জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠান হওয়ার আগেই এই ধরনের প্রি-এম্পটিভ পদক্ষেপ আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।”

‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই’

মির্জা ফখরুল বলেন, “সুপারিশে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ২৭০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যদি সংস্কার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হাস্যকর।”

তিনি বলেন,“জাতীয় সংসদে অনুমোদনের পর যেকোনও বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনপ্রাপ্তির পরই কেবল আইনে পরিণত হয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই এবং তা গণতান্ত্রিক রীতি ও সংসদীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে অথবা নির্বাচনের দিন উক্ত আদেশ অনুযায়ী গণভোট নির্বাচন করা যেতে পারে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, যে, বিএনপি জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি রচনা এবং জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোটের প্রস্তাব করেছিল।”

তিনি বলেন, “২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে প্রস্তাবিত গণভোট অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। সময় স্বল্পতা ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ব্যয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ব্যাপক লোকবল নিয়োগ এবং একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো বিশাল আয়োজনের বিবেচনায় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট অনুষ্ঠান অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক এবং অবিবেচনাপ্রসূত। একই আয়োজনে এবং একই ব্যয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠান করা বাঞ্ছনীয়।”

‘মনগড়া সংস্কার প্রস্তাব জাতীয় জীবনে দীর্ঘ মেয়াদে অকল্যাণ ডেকে আনবে’

১৯ টি দফায় দেওয়া বক্তব্যের ১৮ নম্বরে মির্জা ফখরুল বলেন, “যেসব বিষয়ে ভিন্নমত /নোট অব ডিসেন্টসহ ঐকমত্য হয়েছে তার উল্লেখ না রেখে এবং দীর্ঘ আলোচনায় যেসব প্রসঙ্গ আলোচনায় আসেনি তা অন্তর্ভূক্ত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অন্যসব সুপারিশ অগ্রহণযোগ্য বিধায় আমারা একমত হতে পারছি না। আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, এইসব সুপারিশ কেবল জাতিকে বিভক্ত করবে, ঐক্যের বদলে অনৈক্য সৃষ্টি করবে। মনগড়া যেকোনও সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণ করলে জাতীয় জীবনে দীর্ঘ মেয়াদে অকল্যাণ ডেকে নিয়ে আসতে পারে।”

সর্বশেষ দফায় মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আশা করি, জাতির প্রত্যাশা পূরণে এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের রক্তের অঙ্গীকার অনুযায়ী এবং যারা দীর্ঘ এই সংগ্রামে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, অপহরণ, নির্যাতন, মামলা, হামলার শিকার হয়েছেন—তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে পারবো।”

“প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা।  সেই লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা আমাদের সকলের কাম্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জাতির অভিপ্রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম লক্ষ্য হবে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং উক্ত জাতীয় সংসদকে প্রকৃত অর্থে জাতীয় জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত করা”, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।

‘১৯, ২৭ ও ৩১ দফা বিএনপির আন্তরিকতার প্রমাণ’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে গণতন্ত্র পুণঃপ্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি, জাতীয় অর্থনীতির বিকাশসহ সব বিষয়ে যুগান্তকারী সব সংস্কার ও উন্নয়ন করেছে বিএনপি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং তারেক রহমানের ২৭ দফা যা আন্দোলনের সহযোগীদের মতামতের ভিত্তিতে ৩১ দফায় পরিণত হয়- এই সব প্রত্যেকটি কর্মসূচী সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি’র আন্তরিকতা ও আগ্রহের প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন “এবারও গত প্রায় ১ বছর ধরে আমাদের দল এবং দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিগণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশন এবং অতপর ঐকমত্য কমিশনের সব সভা, আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমাদের দলের পক্ষ থেকে অনেক বিষয়েই ছাড় দেওয়া হয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবেই চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার সাফল্য কামনা করি। কিন্তু একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসাবে দেশ ও জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের অবস্থান গ্রহণ ও প্রকাশে আমরা দায়বদ্ধ।”

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin