‘বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষার নামে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মীকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একাংশ। এ পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের জামালখান এলাকায় মানববন্ধন করেছেন তাঁরা। এতে চট্টগ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আজ সকালে কর্মকর্তারা জামালখান প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা পরীক্ষা বর্জনে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এতে বক্তব্য দেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইস্কান্দার সুজন, এস এম এমদাদ হোসাইন, মোহাম্মদ ইকবাল, দিলরুবা আক্তার, শারমিন আক্তার, নাসরিন জান্নাত প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষার অজুহাতে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। এক মাস আগে এই পরীক্ষার অবৈধ প্রয়াসের বিরুদ্ধে আমরা রিট করলে, হাইকোর্ট পরীক্ষা প্রক্রিয়া স্থগিত করে নিয়মিত প্রমোশন পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককেও নির্দেশ দেন আদালত।’
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, হাইকোর্টের সেই আদেশ না মেনে ২২ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্পেশাল কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্ট-পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা এবং অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক করে নোটিশ জারি করেছে। শনিবার (কাল) এ পরীক্ষার তারিখ।
পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বক্তারা বলেন, ‘আমরা সরকারি সব নিয়ম মেনে ব্যাংকে যোগদান করেছি। যোগদানের পর ব্যাংকের পদোন্নতিসহ নানা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। সে জন্য চাকরি থেকে ছাঁটাই করার এই প্রহসন ও বৈষম্যমূলক পরীক্ষা আমরা দেব না। সারা বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা এই পরীক্ষায় অংশ নেবে না।’
মানববন্ধনের সময় প্রেসক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক। মানববন্ধন শেষে কর্মকর্তারা উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। তিনি বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
মানববন্ধনের বিষয়ে ব্যাংকটির চট্টগ্রাম অঞ্চলের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক কর্মকর্তা কয়েক মাস আগে থেকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকেই পরীক্ষা দিতে ইতিমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরীক্ষায় ফেল করলে চাকরি চলে যাবে, এমন কিছু বলা হয়নি।