গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও থেমে নেই ইসরায়েলের বিমান হামলা। প্রায় দু বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিহত ফিলিস্তিনি সংখ্যা এখন ৭০ হাজার ১০০ জন, যার মধ্যে ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির পর ৩৫০ জনের বেশি মারা গেছেন।
গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামলা চালায় হামাস। ওই হামলায় অন্তত এক হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করে আসছে নেতানিয়াহু সরকার। ওই হামলার জবাবে, হামাসকে নির্মূলের শিখণ্ডী খাড়া করে গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (এমওএইচ) তথ্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এগুলোকে নির্ভরযোগ্য বলে ঘোষণা করে। তবে ইসরায়েল নিয়মিতভাবে এসব তথ্যের যথার্থতা নিয়ে বিরোধিতা করে আসছে।
বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই দুই পক্ষের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় শনিবারও (২৯ নভেম্বর) বহু মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই সহোদর শিশু—ফাদি ও জুমা আবু আসি ছিল বলে জানা গেছে। পরিবারের বরাতে জানানো হয়, তারা কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিল।
অবশ্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বিবিসিকে জানায়, তারা “হলুদ রেখা” অতিক্রম করা দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
চলতি বছর ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় যে নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, এই কথিত রেখাটি সেই সীমা নির্দেশ করে, যেখানে চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমে নিহত দুই শিশুর একজন আট বছর বয়সী এবং তার ভাইয়ের বয়স ১০ বা ১১ বছর বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
শনিবার নাসের হাসপাতালে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।