গাজায় এবার ইসরায়েলি স্থল অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হলো কার্যকর থাকা অল্প কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আল-শিফা ও আল-আহলি হাসপাতালের বাইরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারান।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, এদিন ৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নিহত ৮৩ জনের মধ্যে ৬১ জনই গাজা সিটিতে প্রাণ হারান, যেখানে ইসরায়েল স্থল আক্রমণ জোরদার করেছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় এ ধ্বংসযজ্ঞকে জাতিগত নিধনের সমতুল্য বলে নিন্দা জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিশুদের জন্য বিশেষায়িত আল-রানতিসি হাসপাতালেও তিন দফা হামলা চালানো হয়। সেখানে অন্তত ৪০ জন রোগীকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ, তবে আরও ৪০ জন রোগী ও চিকিৎসক ভেতরে আটকা পড়েন।
ব্রিটেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার বলেন, শিশুদের হাসপাতাল লক্ষ্য করে রাতে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে তিনি হতবাক হয়ে গেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক আর ডায়ালাইসিসে থাকা শিশুদের উপর কোনও ভাবেই বোমা বর্ষণ করা যায় না।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তদন্তে বলা হয়েছে, গাজার স্বাস্থ্যখাতকে একটি পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই কৌশলকে ‘মেডিসাইড’ বলে উল্লেখ করা হয়। এই কৌশোলের মাধ্যমে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হত্যা এবং হাসপাতাল ধ্বংসের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করে প্রতিপক্ষকে নতজাতু করার চেষ্টা করা হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও হুমকির মুখে ফেলা হয়। এর অংশ হিসেবে আল বাসমা আইভিএফ সেন্টার ধ্বংসের ফলে প্রায় চার হাজার ভ্রূণ এবং এক হাজার শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নমুনা নষ্ট হয়েছে, যা ১৯৪৮ গণহত্যার কনভেনশনের সংজ্ঞায়িত অপরাধের মধ্যে পড়ে।
ইসরায়েলের হামলাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ বলে নিন্দা করেছে হামাস। তাদের অভিযোগ, জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তারপরও এসব হামলা চালিয়ে তারা আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামলা চালায় হামাস। ওই হামলায় হামাস অন্তত ২৫০ জনকে হত্যা এবং এক হাজার ২০০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইসরায়েল। এর জবাবে হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে গাজায় ব্যাপক সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ হাজার ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন আহত হয়েছেন। আরও হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা