ফ্রান্সে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে হত্যার দায়ে দাহবিয়া বেনকিরেদ নামের এক নারীকে দেওয়া হয়েছে আজীবন কারাদণ্ড। ফরাসি আইনে এটি সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে বিবেচিত। দণ্ড অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী বেনকিরেদকে ন্যূনতম ৩০ বছর কারাগারে থাকতে হবে। ফ্রান্সে এত কঠোর শাস্তি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল, এবং এই প্রথম কোনও নারীকে এ দণ্ড প্রদান করা হলো।
এর আগে ক্রমিক হত্যাকারী মিশেল ফুরনিরে এবং জিহাদি সালাহ আবদেসলামকে এই দণ্ড প্রদান করা হয়েছিল।
রায়ের পর নিহত স্কুলছাত্রী লোলা দাভিয়ের মা দেলফিন দাভিয়ে বলেন, আমরা ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করেছিলাম, এবং তা পেয়েছি।
২০২২ সালের অক্টোবরে লোলাকে হত্যা করা হয়। প্যারিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের উঠোনে একটি প্লাস্টিকের বাক্সে তার দেহ উদ্ধার পাওয়া যায়।
সাজাপ্রাপ্ত বেনকিরেদ সে সময় ফ্রান্স ত্যাগের আদেশ পেয়েছিলেন। তবে আলজেরীয় অভিবাসী বেনকিরেদ তার ভিসার মেয়াদ চেষ্টা করেও তখন বৃদ্ধিতে ব্যর্থ হন।
এক অভিবাসীর হাতে হত্যার ঘটনাটি ফ্রান্সের ডানপন্থী ও কট্টরপন্থীরা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার শুরু করেছেন।
বিচারে প্রসিকিউশন দাবি করে বেঙ্কিরেদ যেন সর্বোচ্চ সাজা পান। মানসিক বিশেষজ্ঞরা জানান, তার মধ্যে মনোবিকারগ্রস্তের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তবে তিনি মানসিকভাবে অস্বাভাবিক নন। প্রসিকিউটর আদালতে বলেন, কোনও ওষুধ বা থেরাপি বেনকিরেদের ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন করতে পারবে না। যখন অসুখ নেই, তখন চিকিৎসাও নেই।
বিচার শুরুর আগে বেনকিরেদ বলেন, আমি ক্ষমা চাই। আমি যা করেছি, তা ভয়াবহ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে স্কুল থেকে ফেরার পথে বেনকিরেদ লোলার কাছে যান। পরে তিনি শিশুটিকে তার বোনের সাবলেট করা অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে গিয়ে দেড় ঘণ্টা ধরে যৌন নির্যাতন ও নৃশংসভাবে হত্যা করেন।
তিনি কাঁচি ও বক্স কাটার দিয়ে আক্রমণ করেন এবং টেপ দিয়ে লোলাকে বেঁধে ফেলেন। মাথার চারপাশে টেপ লাগানোর কারণে শ্বাসরোধে শিশুটির মৃত্যু হয়।
রায় ঘোষণাকালে বিচারক বলেন, এই অপরাধ ছিল চরম নিষ্ঠুরতার সমতুল্য। লোলার পরিবার যে অবর্ণনীয় মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছে, আদালত সেটি বিবেচনায় নিয়েছে।
বেনকিরেদ শিক্ষার্থী ভিসায় ফ্রান্সে এসেছিলেন, কিন্তু সময়মতো নবায়ন করেননি। ২০২২ সালের জুলাইয়ে তাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনার কয়েকদিন পরই কট্টর ডানপন্থি নেতা জর্ডান বার্দেলা লেখেন, এই নারীর কখনও ফ্রান্সে আসাই উচিত হয়নি।
তবে ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন এসব রাজনৈতিক মন্তব্যকে অশালীন বলে নিন্দা করেন। লোলার বাবা-মা তাদের সন্তানের নাম ও ছবি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
লোলার বাবা জোহান দাভিয়ে ২০২৪ সালে ৪৯ বছর বয়সে মারা যান।