২০১৯ সালে সল্টলেক স্টেডিয়ামে জামালের ফ্রি-কিকে সাদ উদ্দিন হেড থেকে গোল করে বাংলাদেশকে প্রায় জয় এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য শেষ দিকে এসে গোল হজম করায় ড্র হয়েছে ম্যাচ। সেই ভারতের বিপক্ষে আরও একটি জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষা। ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ দলে খেলা জামাল ভূঁইয়া অনেক আগেই বুঝে গেছেন যে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মানে আবেগ ছাড়িয়ে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাই যে করেই হোক ‘দক্ষিণ এশিয়ার ডার্বি’ ম্যাচ খেলে জেতার সংকল্প তাদের।
মঙ্গলবার রাত ৮টায় জাতীয় স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারত ম্যাচ নিয়ে জামাল বলেছেন,‘এটা অনেক ইমোশনাল ম্যাচ, হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। এই ম্যাচের পর জাতীয় দলের জন্য অনেক লম্বা গ্যাপ আছে। বছরটা যদি জয় দিয়ে শেষ করতে পারি, তা শুধু আমাদের জন্য নয়, সমর্থক ও আপনাদের জন্যও ইতিবাচক হবে। তাই আমার জন্য ম্যাচটি আবেগের, একই সঙ্গে মস্তিষ্ক ব্যবহার করে খেলতে হবে।’
ম্যাচে প্রতিদ্বিন্দ্বিতা নিয়ে ৩৫ বছর বয়সী মিডফিল্ডার বলেছেন,‘কালকের ম্যাচে অনেক ফ্রি কিক হবে, হলুদ কার্ড হবে, গালাগালি হবে। তবে আমি এটা স্বাভাবিক ম্যাচ হিসেবে ধরবো। তবে এই ম্যাচের তাৎপর্য আমি জানি।’
২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ ফুটবলে সবশেষ বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়েছিল। তারপর জয়হীন লাল-সবুজ দল। ২২ বছর ধরে জয় না পাওয়া ও হামজা চৌধুরীর গোল নিয়ে অধিনায়ক নিজের উপলব্ধি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন এভাবে,‘আমরা যে অবস্থায় আছি, এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড। তাই অবশ্যই আমাদের একটা বড় সুযোগ আছে ভালো কিছু করার। আমি সৌভাগ্যবান যে হামজাকে অ্যাসিস্ট করতে পেরেছি।। একটা কর্নার আর একটা বাইসাইকেল। বাইসাইকেল গোলটা আমার দেখা বাংলাদেশের অন্যতম সেরা, অবশ্যই এক নম্বরে থাকবে। হামজা বিদেশ থেকে এসেছে আমার মতন। আমাদের মধ্যে বোঝা পড়া খুব ভালো। হামজার যখনই কোনও সমস্যা হয়, আমাকে টেক্সট করে বা কল করে। ফুটবল নিয়ে কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমি হামজাকে জিজ্ঞাসা করি। এটা মাঠের বাইরে শুরু হয়েছে।’
ভারতের খেলার কৌশল দেখে সেভাবে নামার চেষ্টা বাংলাদেশের। তবে নিজেদের ও প্রতিপক্ষের রক্ষণ নিয়ে জামাল বললেন,‘ডিফেন্সে অবশ্যই আমাদের সমস্যা আছে। তবে ভারত যদি অনেক উপরে উঠে খেলে, তাহলে আমরা সামনে অনেক স্পেস পাবো। আক্রমণে যারা খেলবে ওরা অনেক গতিময় খেলোয়াড়। রাকিব সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুতগতির খেলোয়াড়। তাকে যদি ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারি,তাহলে সন্দেশ ও রাহুল যেই থাকুক না কেন, হি উইল কিল দ্য ডিফেন্স।’
আগের ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। তবে জামালদের চোখ কালকের ম্যাচ ঘিরে। সেই ম্যাচ নিয়ে ডেনমার্ক প্রবাসী ফুটবলার বলেছেন,‘এটা একটি ভালো ম্যাচ হতে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগের ম্যাচে শেষ মিনিটে গোল খেয়েছি। ওটা ভুলে যেতে হবে এবং আগামীকালের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।’
ভারত ম্যাচে সুযোগ বেশি আসবে বলে বিশ্বাস জামালের,‘বাংলাদেশ লো ব্লক খেলা দলের বিপক্ষে কিছুটা সমস্যায় পড়ে। নেপালের বিপক্ষেও সেটা দেখা গেছে। ভারতও শেষ কয়েকটি ম্যাচে লো ব্লকে খেলেছে। তবে আমি মনে করি আমরা ভারতের বিপক্ষে নেপালের চেয়ে বেশি সুযোগ পাবো।’