ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমতি আদায়ের চেষ্টা করবেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ায় তুরস্ক এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আঙ্কারাকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এরদোয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং মস্কোর প্রতিও ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন বলে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতার পথ খুলেছে।
তবে গাজায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। এরদোয়ান জাতিসংঘে ভাষণে বলেছেন, গাজার নৃশংসতা থামাতে ব্যর্থ হলে সবাই দায়ী হবে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছেন যে, নেতারা সমালোচনা করলেও আসল সমাধান চাইতে হলে শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউজেই আসতে হয়।
২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন রুশ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে এফ-৩৫ কেনার প্রক্রিয়া আটকে যায়। তবে এবার দুই নেতার সদর্থক সম্পর্কের কারণে আঙ্কারা আশা করছে সমাধানের পথ মিলতে পারে। সাবেক তুর্কি কূটনীতিক তিমুর সোইলেমেজ বলেছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কংগ্রেসের আপত্তি সত্ত্বেও সমঝোতা সম্ভব।
বৈঠকে এফ-৩৫ ছাড়াও ৪০টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে নতুন এফ-১৬ বিক্রির জন্য ‘স্টেটমেন্ট অব ইন্টেন্ট’ খসড়া করেছে। তবে তুরস্কের হাতে এস-৪০০ থাকার কারণে এফ-৩৫ বিষয়টি বাদ রাখা হয়েছে।
তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী। দেশটি মধ্যপ্রাচ্য, কৃষ্ণসাগর ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে শক্তি বাড়াতে যুদ্ধবিমান সংগ্রহে আগ্রহী। এফ-১৬ ও এফ-৩৫ ছাড়াও ৪০টি ইউরোফাইটার টাইফুন কেনার পরিকল্পনা করছে তারা।
এছাড়া বৈঠকে ট্রাম্প বোয়িং বিমানের বড় একটি চুক্তি সামনে আনতে চান। তুর্কিশ এয়ারলাইন্স ২০০টির বেশি বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে বোয়িং ৭৮৭ ও ৭৩৭ মডেল রয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের জিই ইঞ্জিন সরবরাহও হতে পারে।