জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘সরকার নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করলেও সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা, তা নিয়ে জাতির সামনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তির কু-পরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, যা নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।’
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও তৈরি হয়নি। একটি বিশেষ দলের গোপন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ইচ্ছেমতো ডিসি, এসপি ও ওসি নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে নষ্ট করা হচ্ছে। প্রশাসন যদি রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে হামলা বন্ধ করতে না পারে, তবে তাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।’
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত ‘আটদলীয় জোটের’ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। আট দলের বিভাগীয় সমাবেশগুলোর মধ্যে এটি প্রথম সমাবেশ। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের যে তারিখ ঘোষণা করেছে, তা আমরা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনে যেতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা, সে প্রশ্ন এখন জাতির সামনে। সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তির কু-পরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা প্রধান উপদেষ্টা ও ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানিয়েছি-একই দিনে দুটি ভোট হলে কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তারপরও আমাদের দাবি মানা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারকে সংকটে ফেলতে চাই না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কথা বলে যাচ্ছি। এখনও সময় আছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করুন। জুলাই সনদের আলোকে আগে গণভোট, পরে পার্লামেন্ট গঠিত হবে। এই ক্রমে কোনও পরিবর্তন জনগণ মেনে নেবে না।’
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘একটি দল শুরু থেকেই সংস্কারের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে আসছে। এখন জনতার চাপে নিরুপায় হলেও এখনও ষড়যন্ত্র করছে-কীভাবে ভোট পেছানো যায়, কীভাবে একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন করা যায় এবং কীভাবে সংস্কারের ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করা যায়।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হক আজাদ, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ারুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার প্রমুখ বক্তব্য দেন।