ব্রিটেনে বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলন, যা ‘ইয়োর পার্টি’ নামে পরিচিত, ফের নতুন করে অস্থিরতার মুখে পড়েছে। প্রাক্তন লেবার নেতা জেরেমি করবিন (৭৬) নির্বাচন কমিশনে দলটির একমাত্র আনুষ্ঠানিক নেতা হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার পর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও শরিক, কভেন্ট্রি সাউথের এমপি জারা সুলতানা কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। গ্রীষ্মজুড়ে চলা প্রকাশ্য বাদানুবাদ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পরই এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো, যা দলটির বহু আকাঙ্ক্ষিত, নতুন ও গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক বিকল্পের প্রতিশ্রুতির ওপর দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে।
লেবার পার্টি থেকে এ বছরের গোড়ার দিকে পদত্যাগ করে করবিনের সঙ্গে নতুন এই দলের সহ-নেতৃত্ব দিতে আসা সুলতানার নাম নির্বাচন কমিশনের সরকারি তালিকায় স্পষ্টতই অনুপস্থিত। যদিও কমিশন বলেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলো শুধু একজন আনুষ্ঠানিক নেতাকেই নিবন্ধন করাতে পারে। তবুও বামপন্থার সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে ‘একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ, যেখানে কোনও ভোট ছাড়াই করবিনকে দলের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়েছে’ বলে ব্যাখ্যা করছেন।
করবিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পদে এসেছেন ব্ল্যাকবার্নের প্রাক্তন স্বতন্ত্র এমপি আদনান হুসেন মনোনয়ন কর্মকর্তা হিসেবে এবং ডা. ম্যারিয়ন রবার্টস কোষাধ্যক্ষ হিসেবে। তবে জানা গেছে যে, নেতৃত্ব কাঠামোটি আগামী ২৯ ও ৩০ নভেম্বর লিভারপুলে অনুষ্ঠিতব্য দলের উদ্বোধনী সম্মেলনে ভোটাভুটির মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। যদিও সম্মেলনের ভেন্যু বুকিং নিয়ে কিছু অপ্রমাণিত বিভ্রান্তির খবরও পাওয়া গেছে।
এই খবরটি এমন এক সময় প্রকাশ পেল যখন সুলতানা সমর্থকদের কাছে ই-মেইল করে স্বীকার করেন যে, গ্রীষ্মের কোন্দল তাকে ‘হতাশ’ করেছে। তিনি লেখেন, আমি এই অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে চাই, আমি বুঝতে পারছি যে এটি অনেককে হতাশ করেছে। আমিও একই অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছি। তবে এরপরই তিনি একটি বাস্তবিক গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক দল গঠনের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে তিনি একটি ‘অননুমোদিত’ সদস্যপদ ইমেলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বড় ধরনের ঝামেলার পর করবিন এবং এই প্রকল্পের সাথে জড়িত অন্যান্য পুরুষ স্বতন্ত্র এমপিদের বিরুদ্ধে একটি ‘লিঙ্গবাদী ছেলেদের ক্লাব’ তৈরি করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে তাকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।
এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত দলটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা এবং ভোটারদের কাছে একটি ঐক্যবদ্ধ মুখ তুলে ধরার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা লক্ষ্য ছিল লেবারের কেন্দ্রমুখী পরিবর্তনসহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর ব্যাপক অসন্তোষকে কাজে লাগানো।
প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে, পাঁচ জনের মধ্যে একজন ব্রিটিশ, এবং তরুণদের এক তৃতীয়াংশ ও ২০২৪ সালের লেবার ভোটাররা এই দুই নেতার নেতৃত্বে একটি নতুন বামপন্থী দলকে ভোট দেওয়ার কথা বিবেচনা করবেন। তদুপরি, ২০ হাজারের বেশি সদস্য চাঁদা দিয়ে যোগ দিয়েছেন, যা একটি সমাজতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্মের জন্য শক্তিশালী আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
দলটির জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো নভেম্বরে তাদের উদ্বোধনী সম্মেলন। সদস্যদের শুধু একটি স্থায়ী নামই ঠিক করতে হবে না (অন্তর্বর্তীকালীন নামটি ইতোমধ্যেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে), মূল ভোটটি হবে দলের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে— এই সিদ্ধান্তটিই নির্ধারণ করবে যে ‘ইয়োর পার্টি’ তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে এবং ‘নিচ থেকে আসা, বিভেদহীন রাজনীতির’ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবে, নাকি ব্রিটিশ রাজনীতির প্রান্তিকতায় একটি কোন্দলপূর্ণ অস্তিত্বের দিকে ধাবিত হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত, নতুন ব্রিটিশ বামপন্থার আত্মাকে নিয়ে এই লড়াই চলতেই থাকবে।