একীভূতকরণের আগে পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

একীভূতকরণের আগে পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা সংকটাপন্ন পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ডিএসইর পাঁচটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে।

স্থগিত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।

এর আগে, বুধবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দিয়ে জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী তাদের ‘টিকে থাকতে অক্ষম’ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রতিটিতে প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব ব্যাংক এখন থেকে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় পরিচালিত হবে। প্রশাসকেরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ধাপে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের (২ লাখ টাকা পর্যন্ত) আমানত ফেরত দেওয়া হবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে। বৃহৎ আমানতকারীরা পর্যায়ক্রমে তাদের অর্থ ফেরত পাবেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।

যদিও একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবুও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে যে প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংক সম্মিলিতভাবে গঠন করবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’; যার প্রাথমিক মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা, আর অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা রূপান্তরিত হবে আমানতকারীদের শেয়ারে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটির মালিকানায় ছিল এস আলম গ্রুপ, আর একটি ব্যাংকের মালিকানা ছিল নজরুল ইসলাম মজুমদারের। সেই সময় ব্যাংকগুলো থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়; যার ফলে তাদের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin