দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এডিস মশাবাহিত এ রোগে চলতি বছর মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৯৫।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা, ঢাকা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ডেঙ্গু নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশন ছাড়া)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। ডেঙ্গু নিয়ে সবচেয়ে কম রোগী ভর্তি হয়েছেন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে। এ সংখ্যা ৪।
অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৬ হাজার ৭৮৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ হাজার ৩১০ জন। এ সময় ৭৩ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছর কোনো এক মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে গত জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৪১ জনের মৃত্যু হয়। আর আগস্টে মৃত্যু হয়েছিল ৩৯ জনের।
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এ সংখ্যা ১৩ হাজার ২১০। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৬৫ জন রোগী বরগুনা জেলার। ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ৯৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল বিভাগ। এ সংখ্যা ২৯।
দেশে ২০০০ সালে যখন নতুন করে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন তা ছিল মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক। কিন্তু দিন দিন এটা ছড়িয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গত বছর থেকেই ডেঙ্গু ঢাকার বাইরে ছড়িয়েছে ব্যাপক হারে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ঢাকার বাইরে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৯৯ জন। আর ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৮৭।