চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি-এনসিটি বিদেশিদের হস্তান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে অবরোধ

চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি-এনসিটি বিদেশিদের হস্তান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে অবরোধ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে সোমবার (২৪ নভেম্বর) অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ‘বন্দর রক্ষা পরিষদ’। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য হাসান মারুফ রুমী।

মারুফ রুমী বলেন, ‘আমরা সিরিজ কর্মসূচি দেবো না। আগামী সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বড়পোল, আগ্রাবাদ, সিম্যান্স হোস্টেল এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করবো আমরা। শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট করবো। কেউ উসকানিমূলক কিছু করলে পরিণতি ভালো হবে না। আমরা নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছি।

‘সরকার যখন বলে বন্দরে দুর্নীতি হয় তখন সরকারের কাজ তদন্ত কমিটি করা। তিনটি কাজ সরকারের, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনীতির লাইফলাইন। আগে তদন্ত করুন, বন্দরের কোথায় কোথায় দুর্নীতি আছে। তারপর সংস্কার করুন, কীভাবে দুর্নীতিমুক্ত বন্দর পরিচালনা করতে হয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সিসিটি, এনসিটি দেওয়ার পরিষ্কার বিরোধিতা করতে চাই আমরা। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ৫ হাজার ৪০০ কোটির মধ্যে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ইক্যুইপমেন্ট লাগবে। এ টাকা দেশে ঢুকবে না।’

হাসান মারুফ রুমী বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিচারের রায়ের দিন বন্দরের দুটি স্থাপনার চুক্তি দুরভিসন্ধিমূলক। এটা কাবিননামা নয়, গোপনে করবেন। দেশের সম্পদ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা জানার অধিকার বাংলাদেশের মানুষের আছে। জুলাই সনদেও এটা উল্লেখ আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘কিছু মানুষ স্বার্থসিদ্ধি করার জন্য বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশিদের দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান রেড সির হাতে ‍তুলে দিয়েছে। আমাদের তৈরি করা সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের কোনও কর্মচারী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। আমি অনুরোধ করবো, আমরা দোষ করলে আমাদের বিরুদ্ধে লেখেন। কিন্তু এনসিটি সিসিটি বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করুন।’

এর আগে শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে ‘শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ (স্কপ)-এর বিভাগীয় কনভেনশন থেকেও পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ (স্কপ)।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার সভাপতির বক্তব্যে নগরীর তিন এলাকা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী আগামী বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। নগরীর আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনের সামনে, মাইলের মাথা এবং বড়পুল পোর্ট কানেক্টিং রোডের মুখে স্কপের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।

কনভেনশনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালসহ (এনসিটি) কোনো স্থাপনা দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি, শ্রমিক ও বন্দরনির্ভর মানুষের জীবিকার জন্য হুমকি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি। এজন্য বন্দর অবরোধের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরসহ সব লাভজনক স্থাপনা ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল সংক্রান্ত সব গোপন ও অস্বচ্ছ চুক্তি বাতিল করতে হবে।

অনুষ্ঠানে শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও শ্রম বিশেষজ্ঞ সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বিরাষ্ট্রীয়করণ, পাটকল ইজারা, সরকারি কল-কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিক অধিকারের বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে একটি জাতীয় ইশতেহার প্রয়োজন।’

স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক রিজওয়ানুর রহমান খানের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি আব্দুল কাদের হাওলাদার, স্কপের কেন্দ্রীয় নেতা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাইফুজ্জামান বাদশা, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিকফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এবং এ এ এম ফয়েজ হোসেন বক্তব্য দেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin